বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবার সামনে পাচ্ছেন দেশীয় ক্রিকেটের এক মহামহিম মাইলফলক। দেশের পক্ষে তিনিই হতে যাচ্ছেন প্রথম ক্রিকেটার, যে খেলবেন ১০০তম টেস্ট ম্যাচ। আগামী নভেম্বরের আয়ারল্যান্ড সিরিজেই যদি কোনো শারীরিক সমস্যা না হয়, তাঁকেই দেখা যাবে সেই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ম্যাচে।
বর্তমান টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, এই অর্জন কেবল একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত সাফল্যে বসে নেই। এটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক অধ্যায়ের সূচনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “উনার (মুশফিক) শততম টেস্ট যদি হয়, সেটা শুধু তাঁর নয়, আমাদের সবার আনন্দের বিষয়। পাঁচটা দিন আমরা একসঙ্গে উদযাপন করব।”
মুশফিকের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান নিজের জন্যই কথা বলে—৯৮ টেস্টে ৬ হাজার ৩০০’র বেশি রান, ১২টি সেঞ্চুরি, তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি, আর ২৭টি হাফ সেঞ্চুরি। বিশেষ করে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁকেই আলাদা করে দিয়েছে। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটার এর আগে এই অর্জনের কাছেও যায়নি।
শান্ত জানিয়েছেন, শুধু পারফরম্যান্স নয়, দলীয় আবহে মুশফিক এক অমূল্য সম্পদ। “উনি ড্রেসিংরুমে থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। চাপের সময়ও কীভাবে ব্যাট করতে হয়, সিদ্ধান্ত নিতে হয়—আমরা উনার কাছেই শিখেছি।” ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা কীভাবে একটি দলকে বদলে দিতে পারে, তার জীবন্ত উদাহরণ এই সাবেক অধিনায়ক।
আগামী ১৯ নভেম্বর মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট, যেখানে সম্ভবত লেখা হবে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়। সেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেটও পাবে নতুন পরিচয়—টেস্টে ‘শততম’ ক্রিকেটার পেয়েছে দেশটি। এই ম্যাচটিই হতে পারে পুরো ড্রেসিংরুমে আনন্দ, উদযাপন আর স্মৃতির আয়োজন।
আসন্ন সিরিজ কেবল একটি জনপ্রিয় ক্রিকেটারের মাইলফলক নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতি কতটা পরিপক্ক হয়েছে—তারও প্রতিচ্ছবি। আগে দলীয় লক্ষ্য ছিল জেতা, লড়াই করা। এখন দলীয়ভাবে ক্যারিয়ারের সম্মান উদযাপন করার মানসিকতা উঠে এসেছে। এটিই বোঝাচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট শুধু ফল নয়, ঐতিহ্যে উন্নতি করছে।
