ফেডারেশন কাপ ফুটবলে টানা তৃতীয়বার শিরোপা জিতলেও বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়দের ট্রফি গ্রহণ ও আনুষ্ঠানিক উদযাপনে অংশ না নেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। ফাইনালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে বসুন্ধরা কিংস শিরোপা নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাবটি দ্বিতীয়বারের মতো ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল অর্জন করে।
তবে ম্যাচ শেষে স্বাভাবিক শিরোপা উদযাপনের দৃশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়। সাধারণত শিরোপা জয়ের পর মাঠে খেলোয়াড়দের উল্লাস, ট্রফি উঁচিয়ে উদযাপন এবং দলগত আনন্দ প্রকাশ দেখা গেলেও এই ম্যাচে তার কোনো উপস্থিতি ছিল না। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা সরাসরি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। ট্রফি বিতরণ মঞ্চে তারা উপস্থিত হননি এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দলীয় কোনো প্রতিনিধি ট্রফি গ্রহণে এগিয়ে আসেননি।
পরবর্তীতে জানা যায়, শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত পুরস্কার গ্রহণ করতে মাঠে আসেন ডরিয়েলটন গোমেজ। তিনি কোচ বায়েজিদ জোবায়ের নিপুর হাত থেকে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গ্রহণ করেন। তবে দলীয় ট্রফি গ্রহণে পুরো দলের অনুপস্থিতি মাঠে উপস্থিত দর্শক, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিস্ময় ও প্রশ্নের সৃষ্টি করে।
ফাইনালের আগে বসুন্ধরা কিংস শিবিরেও কিছু অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। দলটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে মাঠে আসে এবং ওয়ার্মআপ কার্যক্রম সংক্ষিপ্তভাবে সম্পন্ন করে। অন্যদিকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেয় বলে জানা যায়। এসব বিষয়কে ঘিরে ম্যাচ শুরুর আগেই ভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ম্যাচ শেষে কেন চ্যাম্পিয়ন দল ট্রফি গ্রহণে অংশ নেয়নি—এই প্রশ্ন ঘিরে আলোচনার সৃষ্টি হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। নির্ধারিত বেতন না পাওয়ার প্রতিবাদ হিসেবেই ফুটবলাররা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেননি বলে দাবি করা হয়।
এর পাশাপাশি দলটির সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহারে পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে। সর্বশেষ সাতটি ম্যাচে দলটি মূলত ডরিয়েলটন গোমেজকে একমাত্র বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামিয়েছে। ফাইনালেও একই চিত্র দেখা যায়, যেখানে তিনি একমাত্র বিদেশি হিসেবে খেলেন।
কোচ বায়েজিদ জোবায়ের নিপু ম্যাচ শেষে জানান, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব ট্রফি গ্রহণের সিদ্ধান্তে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আর্থিক কারণের পাশাপাশি প্রতিপক্ষ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতি ক্ষোভও এই ঘটনার একটি অংশ। তার ভাষ্যমতে, ফাইনাল আয়োজন ঘিরে মোহামেডান ক্লাবের কিছু অবস্থান ও মন্তব্য দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে বসুন্ধরা কিংস ফাইনাল ম্যাচটি না খেলার বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে) চিঠি দিয়েছিল এবং প্রতিপক্ষ দলকে সরাসরি চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খেলোয়াড়রা বেতনের দাবিতে অভ্যন্তরীণভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই ফাইনালে শিরোপা জয়ের পরও তারা ট্রফি গ্রহণে অংশ নেননি।
ফলে শিরোপা জয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের পরও বসুন্ধরা কিংসের উদযাপনহীন প্রস্থান দেশের ঘরোয়া ফুটবলে এক বিরল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। একটি চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি গ্রহণে অংশ না নেওয়া এবং মাঠ ত্যাগের এই ঘটনা ফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের বাইরেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
