ডাংগুলি খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

আজকে আমরা ডাংগুলি খেলার আইন কানুন সম্পর্কে আলোচনা করব। গ্রামীন খেলাধুলার মধ্যে ভাগুেলি একটি অসম্ভব জনপ্রিয় খেলা। এ খেলার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে গ্রামের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ডাংগুলি খেলাকে অনেক জায়গায় গুলবাড়ি খেলা বলা হয়। মূলতঃ ছেলেরাই এ খেলা খেলে থাকে।

 

ডাংগুলি খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

ডাংগুলি খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

ডাংগুলি খেলায় প্রথমে দরকার একটি খোলা মাঠের। মাঠের নির্দিষ্ট কোন আয়তন নেই। বৃত্ত থেকে চারদিকে ৫০ গজ হলেই চলে। সমস্ত খেলোয়াড়দের মধ্যে থেকে লটারি করে একজনকে নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত জন হবে আক্রমনকারী। বাকি সবাই ফিল্ডার।

মাঠের মাঝখানে দেড় ফুট উচ্চতার একটি কাঠের দণ্ড গৌতা থাকবে। দণ্ডের একটু সামনে একটা ছোট লম্বা গর্ত থাকবে। আক্রমণকারীর হাতেও থাকবে দেড়ফুট লম্বা একটা কাঠের দণ্ড। তার সাথে থাকবে ৪ ইঞ্চি লম্বা একটা কাঠি। কাঠিটাকে গর্তের উপর রেখে দেড় ফুটের দণ্ড দিয়ে ঠুকে তুলে সজোরে আক্রমনকারী মারবেন। কাঠি শুনে গেলে কোন ফিল্ডার যদি শূন্যে থাকাকালে তা ধরতে পারে তবে আক্রমনকারী আউট হবে। যে ধরবে সে তখন আক্রমনকারীর ভূমিকায় আসবে।

 

ডাংগুলি খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

আর যদি কোন ফিল্ডার কাঠি না ধরতে পারে তবে কাঠি যেখানে গিয়ে পড়বে সেখান থেকে কোন ফিল্ডার পোঁতা দত্ত লক্ষ্য করে কাঠিটাকে ছুঁড়ে মারবে। যদি দন্ডে কাঠি আঘাত করে তবে আক্রমনকারী আউট হবে এবং যিনি আউট করবেন পরবর্তীবার তিনি আক্রমনকারী হবেন। আর যদি দন্ডে না লেগে দূরে গিয়ে পড়ে বা হিটার হিট করে কাঠিকে দূরে পাঠিয়ে দেন তবে কাঠি যেখানে পড়বে সেখান থেকে আক্রমনকারী (হিটার) দেড়ফুট কাঠি দ্বারা পোঁতা দন্ডের দিকে মাপবেন।

মাপ এ রকম হবে; এক দন্ড ঘোড়া, দুই দন্ড পুড়ি, তিন দত্তর তিনি, চার দন্ডর চারি, পাঁচ দণ্ড পাঁচি, ছয় দন্ড ছয় এবং সাত দন্ড বয়। মাপার সময় হিটার জোরে ঘোড়া, দুড়ি, তিনি, চারি, পাঁচি, ছয়, বয় বলবেন। এক বয় হলে এক পয়েন্ট হবে। এভাবে এক বা একাধিক বয় হয়ে দন্ড যদি পোঁতা দন্ডের এক দন্ডে মাপা শেষ হয় তবে পরেরবার হাতের মুঠোর উপর কাঠি রেখে আঘাত করতে হবে।

 

বয় বা বয় ছাড়া দুই দন্ড হলে বাম হাতে দুই আঙ্গুলে, তিন দন্ডে শেষ হলে তিন আঙুলে উপর, চার দন্ডে শেষ হলে চার আঙ্গুলের উপর কাঠি রেখে মারতে হবে। পাঁচ দন্ডে শেষ হলে এক চোখ বন্ধ করে কাঠি বা হাতে পেছন দিকে রেখে এক পায়ের ভেতর দিয়ে মারতে হবে। একে ‘কানাপাচি মার বলে। ছয় হলে গর্তের উপর কাঠি রেখে মারতে হবে।

বয় হলে দণ্ড ধরা হাতে কাঠি ধরে মারতে হবে। হিটারের বা পয়েন্ট সংগৃহিত হলে সে যতবার আউট হবে তার একটা করে বয় বা পয়েন্ট কাটা যাবে। বহু সংগ্রহের আগেই আউট হলে সে নিজেই আউট হবে। একজন আউট হলে যে তাকে আউট করবে সে হিটার বা আক্রমনকারী হবে। এভাবে খেলা চলতে থাকবে।

Leave a Comment