ড্যারিল মিচেলের সেঞ্চুরিতে কেঁপে উঠল ক্যারিবীয়রা—হতবাক পরাজয় ক্রাইস্টচার্চে!

ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে রোমাঞ্চের শেষ শব্দটিও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। শেষ ৩ ওভারে ৩৭ রান তোলার পরও ম্যাচটি তাদের হাতছাড়া হয় মাত্র ৭ রানে। শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, ব্যাট-বলের লড়াই, শেফার্ডের হিটিং—সব মিলিয়ে ম্যাচটি হয়ে ওঠে নাটকীয়, তবে শেষ হাসি হাসে কিউইরা।

ম্যাচের শেষ ওভারের নাটক

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। স্ট্রাইকে রোমারিও শেফার্ড—ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ আশা।

৩ বলে দরকার ১৫ রান → ডাফির অফস্টাম্পের বাইরে বল। শেফার্ড সোজা ছক্কা।

২ বলে দরকার ৯ রান → ডাফির স্লোয়ার, ব্যাটে লাগলই না।

শেষ বলে ৮ রান প্রয়োজন, যা অসম্ভব—শেফার্ড নিলেন ১ রান।

এভাবে ২৬২/৬–এ থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৭ রানে জিতে যায় নিউজিল্যান্ড।

শেষ ওভারের চাপ সামলে নায়ক ডাফি

শেষ ওভারে ১২ রান ডিফেন্ড করে নিউজিল্যান্ডের নায়ক হয়ে ওঠেন জ্যাকব ডাফি। তার আগের দুই ওভারেই ক্যারিবীয়রা তুলে নিয়েছিল ২৫ রান, তবুও ডাফি শেষ ওভারে চমৎকার নিয়ন্ত্রণ দেখান।

স্কোরকার্ড (টেবিল)

দলইনিংসরানপ্রধান ব্যাটসম্যানপ্রধান বোলার
নিউজিল্যান্ড৫০ ওভার২৬৯/৭মিচেল ১১৯, কনওয়ে ৪৯সিলস ৩/৪১
ওয়েস্ট ইন্ডিজ৫০ ওভার২৬২/৬রাদারফোর্ড ৫৫, গ্রিভস ৩৮*, হোপ ৩৭জেমিসন ৩/৫২

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমস্যার শুরু: ধীর ব্যাটিং

২৬৯ তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

অ্যালিক অ্যাথানেজ — ৫৮ বলে ২৯

কিসি কার্টি — ৬৭ বলে ৩২

ধীর ব্যাটিংয়ে ‘আস্কিং রেট’ ক্রমেই আকাশচুম্বী হয়। শাই হোপ (৪৫ বলে ৩৭) ও রাদারফোর্ড (৬১ বলে ৫৫) কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন।

৪৭ ওভারে স্কোর ২২৫/৬, তখনও প্রয়োজন ১৮ বলে ৪৫—মানুষ সাধারণত এখানে ম্যাচ শেষ ধরে নেয়। কিন্তু শেফার্ড–গ্রিভস জুটি তোলপাড় শুরু করে।

৪৮তম ওভারে ১৩, ৪৯তম ওভারে ১২—শেষ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ লড়াই

গ্রিভস (২৪ বলে ৩৮*) ও শেফার্ড (১৯ বলে ২৬) ম্যাচে ফিরিয়ে আনলে জয়ের আশা জাগে। কিন্তু শেষ ওভারে এসে থেমে যায় গল্প।

নিউজিল্যান্ডকে পুঁজি এনে দেন মিচেল

ড্যারিল মিচেল খেলেন ক্যারিয়ার–সেরা এক ইনিংস—

১১৮ বলে ১১৯ রান

১২টি চার, ২টি ছক্কা

তার সেঞ্চুরিই গড়ে দেয় ম্যাচের ভিত্তি।

ফলাফল

নিউজিল্যান্ড জয়ী ৭ রানে
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ড্যারিল মিচেল

Leave a Comment