তদন্তের মুখে ইতালির রেফারি প্রধান সরে দাঁড়ালেন

ইতালির ফুটবল প্রশাসনে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের ব্যর্থতা ও ক্লাব পর্যায়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে রেফারিং কাঠামো। ইতালির শীর্ষ দুই লিগ সিরি ‘আ’ ও সিরি ‘বি’র রেফারি নিয়োগ–প্রধান গিয়ানলুকা রোচ্চি দায়িত্ব থেকে সাময়িক সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরাসরি মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং বিচারিক তদন্তই মূল কারণ। মিলানের প্রসিকিউটররা ‘স্পোর্টিং জালিয়াতি’ বা খেলাবিষয়ক প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত শুরু করার পর রোচ্চি নিজেই দায়িত্ব থেকে বিরতি নেওয়ার কথা জানান। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষে তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করবেন বলে আশা করছেন।

একই অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) বিভাগের প্রধান আন্দ্রেয়া গেরভাসোনির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। ফলে ইতালির রেফারিং ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে একযোগে চাপ তৈরি হয়েছে।

তদন্তে রোচ্চির বিরুদ্ধে দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত বছরের এপ্রিলে ইন্টার মিলান ও বোলোনিয়ার ম্যাচে রেফারি হিসেবে আন্দ্রেয়া কোলোম্বোকে নিয়োগে প্রভাব খাটিয়েছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই রেফারিকে নাকি ইন্টার মিলানের পছন্দের হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে বাস্তবে সেই ম্যাচে বোলোনিয়া শেষ মুহূর্তে রিকার্ডো ওরসোলিনির গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায়।

দ্বিতীয় অভিযোগটি আরও গুরুতর। এতে বলা হয়েছে, গত বছরের মার্চে উদিনেসে ও পার্মার মধ্যকার ম্যাচে একটি হ্যান্ডবলের ঘটনায় রোচ্চি মাঠের রেফারি এবং ভিএআর কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। ম্যাচে দায়িত্বে থাকা রেফারি ফাবিও মারেস্কা এবং ভিএআর কর্মকর্তা দানিয়েল পাতের্না প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পেনাল্টি হিসেবে বিবেচনা করেননি। তবে ভিএআর কক্ষের ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামেরার বাইরে কারও সঙ্গে কথা বলার পর পাতের্না হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং বলেন, ‘এটা পেনাল্টি।’

প্রসিকিউটরদের দাবি, রোচ্চি ভিএআর কক্ষের দরজায় জোরে ধাক্কা দিয়ে পাতের্নার ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিলেন, যাতে তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। পরবর্তীতে সেই পেনাল্টি থেকেই ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফ্লোরিয়ান থাউভিন এবং উদিনেসে ১-০ ব্যবধানে জয় পায়।

নিচের সারণিতে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট প্রধান ঘটনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
অভিযুক্ত ব্যক্তিগিয়ানলুকা রোচ্চি
পদসিরি ‘আ’ ও ‘বি’ রেফারি নিয়োগ–প্রধান
অভিযোগস্পোর্টিং জালিয়াতি
সংশ্লিষ্ট ম্যাচ ১ইন্টার মিলান বনাম বোলোনিয়া (এপ্রিল)
অভিযোগের ধরনরেফারি নিয়োগে প্রভাব
সংশ্লিষ্ট ম্যাচ ২উদিনেসে বনাম পার্মা (মার্চ)
অভিযোগের ধরনভিএআর সিদ্ধান্তে প্রভাব
সম্ভাব্য শাস্তিসর্বোচ্চ ৬ বছর কারাদণ্ড

ইতালিতে ‘স্পোর্টিং জালিয়াতি’ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ছয় বছরের কারাদণ্ড। এ ছাড়া তদন্ত–সংক্রান্ত নথিপত্র ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের কাছেও পাঠানো হবে। সংস্থাটির নিজস্ব প্রসিকিউটররা চাইলে আলাদা করে শৃঙ্খলাভিত্তিক তদন্ত শুরু করতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে ইতালির ফুটবল প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে রেফারিং ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে।

Leave a Comment