মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সামনে সাবেক নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তারা কমিটি বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে ঘোষিত নির্বাচনের আগে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন তারা।
এর আগে কমিটি ঘোষণার পরপরই মোহামেডান ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সাবেক নারী ক্রীড়াবিদরা। গতকালের মানববন্ধনে তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাবেক ফুটবলার মোহাম্মদ সুজন এবং সাবেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় এনায়েত হোসেন মারুফসহ আরও অনেক প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ। মানববন্ধনে উপস্থিত সবাই একযোগে অবিলম্বে কমিটি বাতিলের আহ্বান জানান এবং দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে ফেডারেশনগুলোতে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে দেওয়া এনএসসির নির্দেশনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক ক্রীড়াবিদরা। সাবেক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ও সংগঠক এনায়েত হোসেন মারুফ বলেন,
“ফেডারেশনে যেমন অ্যাডহক কমিটি, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও একই অবস্থা। কারা ভোটার হবেন, নির্বাচন কীভাবে হবে—এ নিয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। এভাবে ফেডারেশনের নির্বাচন স্বচ্ছ হতে পারে না।”
তৃণমূল জটিলতা ও নির্বাচনী অনিশ্চয়তা
বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তারাও এনএসসির নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান। অধিকাংশ ফেডারেশনেই সাধারণ পরিষদ গঠন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ তৃণমূল পর্যায়ের জেলা ও বিভাগীয় সংস্থাগুলোর বেশিরভাগই অ্যাডহক কমিটির অধীনে চলছে। এসব অস্থায়ী কমিটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা জটিলতা, ফলে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রীড়া কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। উদাহরণস্বরূপ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর স্থলে অন্য ব্যক্তি সরকারি কাগজে স্বাক্ষর করছেন। এসব ঘটনার কারণে স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই অবস্থায় নির্বাচন আয়োজন করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
সাবেক ক্রীড়াবিদদের অবস্থান
সাবেক শুটার সাবরিনা সুলতানা বলেছেন,
“জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে এখনো অ্যাডহক কমিটি বহাল। আগে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন না দিয়ে ফেডারেশনের নির্বাচন দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। জাতীয় নির্বাচনের পরই ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন হওয়া উচিত।”
ক্রীড়া প্রশাসনের অবস্থান
ক্রীড়া প্রশাসনও জানে মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিকে ঘিরে চলমান ক্ষোভের বিষয়টি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম বলেন,
“আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত, এবং তাঁরা এটি নিয়ে ভাবছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমরা ইতিমধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর বর্তমান অ্যাডহক কমিটি নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে।”
এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াবিদরা ক্রমেই আরও সংগঠিত হয়ে উঠছেন।
