
দলীয় ঐক্য বাড়িয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেল টটেনহ্যাম
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অবশেষে জয়ের দেখা পেয়েছে টটেনহ্যাম হটস্পার। কোভেন্ট্রি সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চলতি মৌসুমে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে দলটি। তবে এই জয়কে কেবল পয়েন্ট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না টটেনহ্যামের কোচ রবার্তো ডি জার্বি। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা এবং পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার প্রবণতা তৈরি হওয়াই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন ডি জার্বি। এর পাশাপাশি স্পেনের মার্বেলায় দলের প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য সময় কাটান টটেনহ্যামের খেলোয়াড়েরা। কোচের বিশ্বাস, সাম্প্রতিক এই উদ্যোগগুলো দলের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। মাঠের পারফরম্যান্সেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে ডি জার্বি বলেন, ফলাফলের বাইরেও দুটি বিষয় তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, টটেনহ্যামের খেলোয়াড়েরা বুঝতে পেরেছেন, প্রিমিয়ার লিগের অন্য দলগুলোর মতো তাঁরাও ম্যাচ জিততে সক্ষম। দ্বিতীয়ত, গত দুই সপ্তাহের মতো নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারলে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
দলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে এই ইতালীয় কোচ বলেন, ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের আগের দিন তাঁরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা করেছিলেন। সেখানে নিজেদের অবস্থান, দায়িত্ব এবং করণীয় নিয়ে খোলামেলা কথা হয়। তাঁর মতে, নিজেদের ভুল ও দায়িত্ব স্বীকার করতে না পারলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা কঠিন।
দলের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে গত সপ্তাহে খেলোয়াড়দের নিয়ে স্পেনের মার্বেলায় যান ডি জার্বি। সেখানে উষ্ণ আবহাওয়ায় অনুশীলনের পাশাপাশি সতীর্থদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান ফুটবলাররা। কোচের উদ্দেশ্য ছিল, খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ানো এবং মাঠের বাইরের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
এ প্রসঙ্গে ডি জার্বি বলেন, সপ্তাহটি তাঁদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সবাই একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং একটি পরিবারের মতো থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে খেলোয়াড়দের কেবল পেশাদার দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। সতীর্থকে বন্ধু ও ভাইয়ের মতো মনে করে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হয়। মাঠে একে অপরের জন্য লড়াই করার এই মানসিকতাই একটি দলকে শক্তিশালী করে তোলে।
কোভেন্ট্রির বিপক্ষে ম্যাচেও সেই ঐক্যবদ্ধ মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা ফিরলেও শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে জয় নিশ্চিত করে টটেনহ্যাম। জেমসের দারুণ গোলে এগিয়ে যায় স্পার্সরা। পরে জ্যাক রুডোনির গোলে সমতায় ফেরে কোভেন্ট্রি। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ওমর মারমুশ ও বেন ডেভিসের গোলে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে টটেনহ্যাম।
ম্যাচটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন। ৫৩৬ দিন পর প্রথমবারের মতো শুরুর একাদশে জায়গা পেয়ে গোল করেন জেমিস ম্যাডিসন। দীর্ঘ সময় পর তাঁর এমন প্রত্যাবর্তন দলের জন্য বাড়তি স্বস্তির বিষয়। একই সঙ্গে গুরুতর চোট কাটিয়ে মে মাসের পর প্রথমবারের মতো বদলি হিসেবে মাঠে ফেরেন ডেজান কুলুসেভস্কি।
দীর্ঘ বিরতির পর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ফিরে আসাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ডি জার্বি। তাঁর মতে, প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব ও অভিজ্ঞতা আলাদা। তাঁদের উপস্থিতিতে ড্রেসিংরুমের পরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ায় দল আরও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, হারের পরও কোভেন্ট্রি সিটির লড়াকু পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। তাঁর মতে, ৩-১ গোলে পরাজিত হলেও খেলোয়াড়েরা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে গেছেন। তবে মারমুশের গোল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ল্যাম্পার্ডের দাবি, গোলটির আগে মারমুশের কনুইয়ের আঘাতের বিষয়টি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
বিতর্কিত মুহূর্তটি নিয়ে আপত্তি থাকলেও দলের সামগ্রিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন কোভেন্ট্রি কোচ। তাঁর মতে, ম্যাচটি ছিল দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং স্কোরলাইনে পিছিয়ে পড়লেও তাঁর দল লড়াই থেকে সরে আসেনি।
টটেনহ্যামের জন্য এই জয় তাই শুধু মৌসুমের প্রথম তিন পয়েন্ট অর্জনের ঘটনা নয়। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ উন্নত করা এবং সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এই ইতিবাচক পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দল কতটা ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তার ওপর।