
দীর্ঘ ১৮ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে তুর্কি ক্লাব ফেনারবাচে
ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এই মঞ্চে ফেরার জন্য প্রায় দুই যুগ ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে তুরস্কের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফেনারবাচে-কে। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার সোনালী ফল পেল ইস্তাম্বুলের ক্লাবটি। ফরাসি প্রতিপক্ষ অলিম্পিক লিওঁকে তাদেরই ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে তারা। এই জয়ের সুবাদে দীর্ঘ ১৮ বছর পর ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে কুলীন টুর্নামেন্টের মূলপর্বে নিজেদের নাম লেখাল তুর্কি জায়ান্টরা।
ইস্তাম্বুলের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় লিওঁর মাঠে নামার আগে বেশ চাপে ছিল ফেনারবাচে। তবে সেই চাপকে শক্তিতে রূপান্তর করে ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেন সফরকারীরা। ম্যাচের ২৪ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্যের দেখা পেয়ে যায় তারা। ওগুজ আইদিনের চমৎকার ক্রস থেকে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ভেদাত মুরিকি হেড নিলে লিওঁ গোলরক্ষক ডমিনিক গ্রিফ তা প্রতিহত করেন। তবে ডি-বক্সের ভেতরে সজাগ থাকা মুরিকি ফিরতি বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি।
এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেনারবাচে। ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাসন গ্রিনউডের নিখুঁত কর্নার থেকে ভেসে আসা বল উঁচুতে থেকে হেডে সরাসরি জালে পাঠান ডিফেন্ডার আর্চি ব্রাউন। স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দিয়ে প্রথমার্ধেই ২-০ গোলের আরামদায়ক লিড নিয়ে বিরতিতে যায় তুর্কি ক্লাবটি।
বিরতির পর কামব্যাক করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁ। ম্যাচের ৬১ মিনিটে এইনসলে মেটল্যান্ড-নাইলসের বাড়ানো পাস চমৎকার দক্ষতায় কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমিয়ে দেন মালিক ফোফানা। এই গোল ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দেয় এবং মাঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। ৬৪ মিনিটে লুইস ওপেন্দা এবং ৭১ মিনিটে কাইল বুদাচ বল জালেও জড়িয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে ভিএআর চেক করার পর দুটি গোলই বাতিল করেন রেফারি। ওপেন্দার গোলটি অফসাইডের ফাঁদে পড়ে আর বুদাচের গোলটি আসে ফাউলের সুবাদে।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে দারুণ এক জয়ের উল্লাসে মাতে ফেনারবাচে। এর আগে ক্লাবটি সর্বশেষ ২০০৮-০৯ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এরপর ২০১০-১১ মৌসুমে ঘরোয়া লিগ জিতলেও ম্যাচ পাতানোর বিতর্কিত তদন্ত ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় ইউরোপীয় আঙিনা থেকে দূরে থাকতে হয় তাদের। পরবর্তীতে আইনি লড়াইয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলেও মূলমঞ্চে ফেরার এই দীর্ঘ অপেক্ষা ফেনারবাচে সমর্থকদের জন্য ছিল চরম ধৈর্যের পরীক্ষা। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে ইউরোপের সেরা মঞ্চে তাদের এই প্রত্যাবর্তন তুর্কি ফুটবল ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।