ধবলধোলাই! নিউজিল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনকভাবে বিধ্বস্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি–টোয়েন্টিতে সামান্য লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও ওয়ানডে সিরিজে আর দাঁড়াতেই পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পূর্ণ শক্তির না হলেও নিউজিল্যান্ডের বর্তমান দলটিকে যে হারানো সহজ নয়, তা প্রমাণ করতে তিন ম্যাচই যথেষ্ট ছিল। টি–টোয়েন্টি সিরিজে একটি জয় পেলেও ওয়ানডেতে সেই সামান্য সান্ত্বনাটুকুও জুটল না ক্যারিবীয়দের ভাগ্যে। ৩–০ ব্যবধানে নাকাল হয়ে সিরিজ শেষে ফিরে যেতে হলো তাদের।

হ্যামিল্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে যেন একতরফা হয়ে ওঠে। টসে জিতে ব্যাট হাতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল চমকপ্রদ—প্রথম কয়েক ওভারেই আসে কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। কিন্তু সেই ঝোড়ো শুরুকে ধরে রাখতে পারেননি ব্যাটাররা। কিউই বোলারদের ধারাবাহিক আক্রমণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। দলীয় সংগ্রহ ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৬.২ ওভারে, যা একসময় ২৫০+ রান সম্ভব মনে হচ্ছিল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ব্যর্থতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায় তাদের সর্বোচ্চ স্কোরার রোস্টন চেজ করেছেন মাত্র ৩৮ রান। অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও স্ট্রাইক রোটেশন ও চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হন। ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ২৬ রান করলেও বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। বরং পুরো ইনিংসে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা—বিশেষ করে ম্যাচসেরা ম্যাট হেনরি। তিনি ৪৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। জ্যাকব ডাফি ও মিচেল স্যান্টনার ২টি করে উইকেট নেন, তিনজন মিলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন ক্যারিবীয় ব্যাটিং।

১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডও শুরুতে বিপাকে পড়ে। মাত্র ৩২ রানের মধ্যে ফিরে যান তাদের তিন টপ–অর্ডার ব্যাটার। কিছুক্ষণ গ্যালারিতে চাপা গুঞ্জন চললেও ম্যাচের বড় চিত্রে সেগুলো বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ লক্ষ্য ছিল খুবই ছোট, আর সেটি তাড়া করার দায়িত্ব নেন মার্ক চাপম্যান ও মাইকেল ব্রেসওয়েল।

চাপম্যান ৬৩ বলে ঝলমলে ৬৪ রানের ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে দেন। অন্যপ্রান্তে ব্রেসওয়েল ৩১ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে বাকি কাজ সেরে ফেলেন ৩০.৩ ওভারে। ফলে ৪ উইকেট হাতে রেখে সহজেই জয় তুলে নেয় কিউইরা। পুরো সিরিজে ধারাবাহিক বোলিংয়ের জন্য কাইল জেমিসন হন সিরিজসেরা—তার ঝুলিতে ৭ উইকেট।

পুরো সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং ছিল নড়বড়ে, বোলিং ছিল ধারহীন, আর দলগত আত্মবিশ্বাস ছিল ভঙ্গুর। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেই দুর্বলতাগুলো আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ড প্রমাণ করেছে কিভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং, প্রয়োজনীয় সময়ে ব্যাটিং ক্যামিও এবং দলগত মনোযোগ দিয়ে সিরিজ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সিরিজের ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ আবার কবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে? বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, তাদের সামনে পুনর্গঠনের বড় পথ অপেক্ষা করছে।

Leave a Comment