পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের উদীয়মান শক্তি নরওয়ে। ফুটবল ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর সমীকরণ হলো—বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল হওয়া সত্ত্বেও নরওয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনো একবারও জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এবারই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এই দুই দল। ফলে এই ম্যাচকে ঘিরে অতীত পরিসংখ্যান, ইতিহাস ও বর্তমান ফর্মের যে মেলবন্ধন ঘটেছে, তা ফুটবল বিশ্বে ছড়াচ্ছে বাড়তি উন্মাদনা।
টুর্নামেন্টের শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্টকে একই ২-১ ব্যবধানে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে টিকে আছে নরওয়েও। আগামী ৫ জুলাই দিবাগত বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ আটে ওঠার এই ঐতিহাসিক দ্বৈরথে মাঠে নামবে দুই দল।
ইতিহাসের পাতা: ব্রাজিলের জন্য এক অস্বস্তিকর অতীত
কাগজে-কলমে এবং ফুটবলীয় ঐতিহ্যে ব্রাজিলকে ফেবারিট ধরা হলেও অতীতের মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যান সেলেসাওদের জন্য বেশ অস্বস্তিকর। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত মোট চারবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে এবং বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, নরওয়ের বিপক্ষে এখনো কোনো জয়ের রেকর্ড নেই ব্রাজিলের।
দুই দলের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৮৮ সালের একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় নরওয়ে। তবে দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। কিয়েতিল রেকদালের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল নরওয়েজিয়ানরা। এরপর ২০০৬ সালে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ১-১ গোলে ড্র করে দুই দল। সেই থেকে দীর্ঘ দুই দশক আর কোনো ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি তারা।
হালান্ডের নরওয়ে বনাম আনচেলত্তির ব্রাজিল
এবারের নরওয়ে দলের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি এবং প্রতিপক্ষের প্রধান ভীতি হলেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে জয়সূচক গোল করে জাতীয় দলের হয়ে নিজের গোলসংখ্যাকে ৬০-এ নিয়ে গেছেন এই গোলমেশিন। তার সঙ্গে নরওয়ের আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তরুণ উইঙ্গার আন্তোনিও নুসা।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগও তারকাবহুল। সেলেসাওদের হয়ে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রদ্রিগো, ম্যাথেউস কুনিয়া এবং দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ তারকা নেইমার। জাপানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয় ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ডাগআউটে থাকা ব্রাজিলের লক্ষ্য এখন দুটি—বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করা এবং নরওয়ের বিপক্ষে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক জয়খরা ঘুচিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা।
