সান্তোসের অনুশীলনকে কেন্দ্র করে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল, তা দ্রুতই সমাধানের পথে গড়িয়েছে। সতীর্থ রবিনিও জুনিয়রের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন নেইমার, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে।
ঘटनার সূত্রপাত গত রোববারের অনুশীলনে। অনুশীলনের সময় ড্রিবলিংয়ের এক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে নেইমার ও ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড Robinho Jr.-এর মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পরে তা শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নেইমার সতীর্থকে অপমানজনক ভাষায় গালি দেন, ল্যাং মারেন এবং চড় দেন। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রবিনিও জুনিয়র ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং তা না হলে চুক্তি বাতিলের হুমকিও দেন।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন ক্লাব সান্তোস এফসি বিষয়টি তদন্তের ঘোষণা দেয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, নেইমারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, বিশেষ করে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনায় প্রভাব ফেলতে পারত।
তবে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব প্রতিযোগিতা কোপা সুদামেরিকানা-এ প্যারাগুয়ের দেপোর্তিভো রেকোলেতার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। ম্যাচটি ১–১ গোলে ড্র হয়, যেখানে সান্তোসের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন নেইমার। গোলের পর সতীর্থ রবিনিও জুনিয়রকে জড়িয়ে ধরে উদযাপন করতে দেখা যায় তাকে, যা বিরোধ নিরসনের ইঙ্গিত দেয়।
ম্যাচ-পরবর্তী মিক্সড জোনে নেইমার সাংবাদিকদের জানান, অনুশীলনের সময় ভুল বোঝাবুঝি থেকে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন এবং ঘটনার পরই ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি দলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল এবং ড্রেসিংরুমে সবার সামনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পর নেইমার ব্যক্তিগতভাবেও রবিনিও জুনিয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ফোনে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তার প্রতিনিধিদল জুনিয়রের মা ভিভিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরবর্তীতে জুনিয়রের ব্যবস্থাপক দল প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালে নেইমার সেটিও পালন করেন।
নিচে ঘটনার প্রধান ধাপগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা | অনুশীলনে নেইমার–রবিনিও জুনিয়র সংঘর্ষ |
| অভিযোগ | গালি, ল্যাং মারা, চড় |
| প্রতিক্রিয়া | জুনিয়রের চুক্তি বাতিলের হুমকি |
| ক্লাবের পদক্ষেপ | তদন্ত ঘোষণা |
| সমাধান | নেইমারের ক্ষমা প্রার্থনা |
| সাম্প্রতিক ম্যাচ | সান্তোস ১–১ দেপোর্তিভো রেকোলেতা |
| উল্লেখযোগ্য ঘটনা | গোলের পর নেইমার–জুনিয়রের আলিঙ্গন |
পরবর্তীতে রবিনিও জুনিয়র জানান, তিনি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছিলেন, কারণ নেইমার তার আদর্শ। তবে নেইমার নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ায় তিনি বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছেন এবং ক্লাবের বিরুদ্ধে দেওয়া আইনি নোটিশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রবিনিও জুনিয়রের বাবা রবিনহোএকসময় নেইমারের সতীর্থ ছিলেন এবং সান্তোস ও ব্রাজিল জাতীয় দলে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি সাও পাওলোর একটি সংশোধনাগারে সাজা ভোগ করছেন। ঘটনার কথা জানতে পেরে তিনি মানসিকভাবে বিচলিত হলেও পরবর্তীতে সমঝোতার খবর তাকে স্বস্তি দেয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে সান্তোস শিবিরে সৃষ্ট অস্থিরতা আপাতত প্রশমিত হয়েছে এবং দলীয় পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
