
পাঁচ হলুদ কার্ডেও মেসির নিষেধাজ্ঞা নেই, কীভাবে সম্ভব?
আগামী সোমবার ভোরে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশনের মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি। চলতি মৌসুমে পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখায় নিয়ম অনুযায়ী এই ম্যাচে মেসির নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু এমএলএসের শৃঙ্খলাবিধির একটি বিশেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়েছেন তিনি।
লিগের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত মৌসুমে কোনো খেলোয়াড় পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখলে তাঁকে পরবর্তী ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে ২৫০ ডলার জরিমানাও দিতে হয়। গত বুধবার সিনসিনাটির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ২-২ গোলের ড্র হওয়া ম্যাচে ৪৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। এটি ছিল চলতি এমএলএস মৌসুমে তাঁর পঞ্চম হলুদ কার্ড।
তবে শুধু পাঁচটি কার্ড দেখার হিসাব করলেই মেসির বর্তমান শৃঙ্খলাজনিত অবস্থান বোঝা যাবে না। কারণ, এমএলএসে হলুদ কার্ডের সংখ্যা কমানোর একটি বিশেষ নিয়ম রয়েছে।
লিগের বিধান অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচটি ম্যাচে হলুদ বা লাল কার্ড না দেখলে এবং অন্য কোনো শাস্তির মুখোমুখি না হলে তাঁর জমা হওয়া হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে একটি কার্ড বাদ দেওয়া হয়। খেলোয়াড়দের ভালো আচরণে উৎসাহিত করতে চালু করা এই নিয়মকে বলা হয় ‘গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ’ বা ভালো আচরণের প্রণোদনা। নিয়মিত মৌসুমে একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা পেতে পারেন।
মেসির ক্ষেত্রে ঠিক এই নিয়মটিই কার্যকর হয়েছে। পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখার আগেই তিনি কার্ড ছাড়া টানা পাঁচটির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন। ফলে তাঁর আগের একটি হলুদ কার্ড কার্যকর শৃঙ্খলাজনিত হিসাব থেকে বাদ পড়ে যায়। কার্ডটি তাঁর সামগ্রিক রেকর্ডে থাকলেও নিষেধাজ্ঞার হিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটি আর গণনা করা হচ্ছে না।
চলতি মৌসুমে মেসি তিনবার পাঁচ ম্যাচের এই শর্ত পূরণ করেছেন। ফলে তাঁর মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা পাঁচ হলেও নিষেধাজ্ঞার জন্য বিবেচিত কার্যকর কার্ডের সংখ্যা বর্তমানে মাত্র দুটি।
মৌসুমের শুরুতে কোনো হলুদ কার্ড ছাড়াই টানা পাঁচটির বেশি ম্যাচ খেলেছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এই সুবিধার কারণে কার্ডের হিসাব কখনো শূন্যের নিচে নামতে পারে না। পরবর্তী সময়ে দুটি ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। এরপর টানা পাঁচ ম্যাচ কার্ড না দেখায় তাঁর কার্যকর কার্ডের সংখ্যা কমে একটিতে দাঁড়ায়।
এরপর আরও একটি হলুদ কার্ড দেখায় সংখ্যাটি আবার দুইয়ে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে টানা ১০ ম্যাচ কোনো কার্ড না দেখায় নিয়ম অনুযায়ী দুটি কার্ডের মধ্যে দুটি সমন্বয় হয়ে কার্যকর সংখ্যা শূন্যে নেমে আসে। সর্বশেষ তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হলুদ কার্ড দেখায় সেই সংখ্যা আবার বেড়ে দুই হয়েছে।
অর্থাৎ, মেসির ব্যক্তিগত শৃঙ্খলাজনিত রেকর্ডে পাঁচটি হলুদ কার্ড থাকলেও এমএলএসের নিয়ম অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সীমা অতিক্রম করেননি তিনি। তাই নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে তাঁর কোনো বাধা নেই।
চ্যাম্পিয়নস কাপের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ
মেসির খেলার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি ইন্টার মায়ামির জন্য স্বস্তির খবর। কারণ, নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশনের বিপক্ষে ম্যাচটি দলটির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আগামী মৌসুমে কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে এই ম্যাচের ফল বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচ ক্রিস্টিয়ান গঞ্জালেস জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস কাপের টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নিয়মিত মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে আর পয়েন্ট হারানোর সুযোগ নেই। তাঁর দলের সামনে এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।
এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। ৩২ ম্যাচে দলটির সংগ্রহ ৫৬ পয়েন্ট। সমানসংখ্যক ম্যাচ খেলে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউ ইংল্যান্ড রেভোল্যুশন। অন্যদিকে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।
ইন্টার মায়ামি ও নিউ ইংল্যান্ড—দুই দলই ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের এমএলএস প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে প্লে-অফে ওঠার লড়াই শেষ হলেও আগামী মৌসুমের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে তাদের সামনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপে সাধারণত এমএলএস কাপ, লিগস কাপ ও ইউএস ওপেন কাপজয়ী দল সরাসরি জায়গা পায়। এ ছাড়া এমএলএস সাপোর্টার্স শিল্ডজয়ী দল এবং ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষ দলগুলোর জন্যও সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।
এবার ন্যাশভিল ইতিমধ্যে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতে নেওয়ায় ইস্টার্ন কনফারেন্স থেকে পরবর্তী যোগ্য দলটির সরাসরি চ্যাম্পিয়নস কাপে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সে কারণে কনফারেন্সের শীর্ষস্থানগুলোর লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলে পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস কাপে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও শক্তিশালী করতে পারবে ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে নিউ ইংল্যান্ডও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইবে।
এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের অধিনায়ক মেসিকে পাওয়া ইন্টার মায়ামির জন্য বড় স্বস্তি। পাঁচটি হলুদ কার্ডের পরও এমএলএসের বিশেষ নিয়মের কারণে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোয় সমর্থকদের অপেক্ষা এখন মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স দেখার।