বিশ্বকাপে আরেকটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। নরওয়ের বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সরাসরি সর্বাধিক গোলে অবদানের তালিকায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলেকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। এই কীর্তির মাধ্যমে এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল-অবদানকারী ফুটবলার। তার সামনে আছেন শুধু আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে উসমান দেম্বেলের দুটি গোলেই সহায়তা করেন এমবাপ্পে। ফলে বিশ্বকাপে তার মোট সরাসরি গোল অবদানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০। এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট। মাত্র কয়েকটি আসর খেলেই এমন উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়া এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের সর্বকালের গোল অবদানের তালিকায় এখন শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার নামের পাশে রয়েছে ২৭টি সরাসরি গোল অবদান—১৮টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট। দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা এমবাপ্পে ২০টি অবদানের মাধ্যমে এককভাবে অবস্থান শক্ত করেছেন।
এই তালিকায় ১৯টি করে গোল অবদান নিয়ে যৌথভাবে পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন চারজন কিংবদন্তি ফুটবলার। ব্রাজিলের পেলের রয়েছে ১২টি গোল ও ৭টি অ্যাসিস্ট। জার্মানির গার্ড মুলার করেছেন ১৪ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট। ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওর নামের পাশে রয়েছে ১৫ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট, আর জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজে করেছেন ১৬ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট। এমবাপ্পের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে এই চার কিংবদন্তির সবার ওপরে তুলে দিয়েছে।
বিশ্বকাপে এমবাপ্পের ধারাবাহিক সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি টুর্নামেন্টেই তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই কারণেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল অবদানের তালিকায় এত দ্রুত শীর্ষ সারিতে উঠে আসতে পেরেছেন তিনি।
এদিকে চলমান আসরের গোল্ডেন বুটের লড়াইটাও জমে উঠেছে। চার গোল নিয়ে এমবাপ্পে রয়েছেন শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন। পাঁচ গোল করে তালিকার শীর্ষে আছেন লিওনেল মেসি। নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ডের গোলও চারটি, যদিও সর্বশেষ ম্যাচে তিনি বেঞ্চে ছিলেন।
টুর্নামেন্টের এখনও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ বাকি। তাই গোল্ডেন বুটের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বকালের বিভিন্ন রেকর্ডেও পরিবর্তন আসতে পারে। এমবাপ্পে যদি একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন, তবে মেসির ২৭ গোল অবদানের রেকর্ডও ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ফলে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে ফুটবলপ্রেমীদের নজর থাকবে শুধু দলীয় সাফল্যের দিকেই নয়, বরং মেসি ও এমবাপ্পের এই ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানের লড়াইয়েও।
