
প্যারিসে লুটপাটের তাণ্ডব, চুরি মেসির স্বাক্ষরিত জার্সি-আর্মব্যান্ড
প্যারিসে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্যে চুরি হয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির স্বাক্ষর করা বার্সেলোনার একটি জার্সি ও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে চুরি যাওয়া স্মারক দুটি প্রদর্শন করতে দেখা গেছে। তবে এগুলোর বর্তমান অবস্থান, উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা কিংবা সুনির্দিষ্ট বাজারমূল্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আর্জেন্টিনার ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ চুরির খবর জানানো হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছাকাছি ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। মুখোশধারী ব্যক্তিরা মেসির স্বাক্ষর করা জার্সিটি ফ্রেমসহ নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁর স্বাক্ষর করা অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও দেখা যায়।
তবে স্মারক দুটি ঠিক কোন প্রতিষ্ঠান থেকে চুরি হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে কি না কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা-ও জানা যায়নি।
মেসির স্মারকের বাজারমূল্য কত হতে পারে?
বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘ ও সফল অধ্যায়ের কারণে ক্লাবটির জার্সি, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড এবং তাঁর স্বাক্ষরযুক্ত অন্যান্য স্মারকের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন তিনি। ফলে তাঁর ক্যারিয়ারের সঙ্গে সম্পর্কিত স্মারকগুলো ফুটবলপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে।
এ ধরনের স্মারকের মূল্য নির্ধারণে শুধু স্বাক্ষর থাকাই যথেষ্ট নয়। জার্সিটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সেটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব কি না, সংরক্ষণাবস্থা কেমন এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতটা—এসব বিষয় মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। নিলামে সংগ্রাহকদের চাহিদাও চূড়ান্ত দামকে প্রভাবিত করতে পারে।
মেসির স্মারকের উচ্চমূল্যের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ রয়েছে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে ঘিরে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অভিযানে মেসির পরা ছয়টি জার্সি ২০২৩ সালে নিলামে বিক্রি হয়। জার্সিগুলোর সম্মিলিত বিক্রয়মূল্য ছিল ৭.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্বকাপজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং মেসির পারফরম্যান্সের কারণে জার্সিগুলো সংগ্রাহকদের কাছে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছিল।
তবে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ওই জার্সিগুলোর সঙ্গে প্যারিস থেকে চুরি হওয়া স্মারক দুটির সরাসরি তুলনা করা যায় না। চুরি হওয়া জার্সিটি কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, কিংবা আর্মব্যান্ডটি মেসির ক্যারিয়ারের কোনো বিশেষ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই স্মারক দুটির সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।
বিক্ষোভের মধ্যে লুটপাট, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান
প্যারিসে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার এবং সংঘর্ষে ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনতা বিলাসবহুল বুটিক, দামি সরঞ্জাম বিক্রির দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায় বলে জানা গেছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে দোকান, প্রদর্শনীস্থল ও ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে বিখ্যাত ক্রীড়াবিদদের ব্যবহৃত বা স্বাক্ষর করা স্মারকের গুরুত্ব কেবল আর্থিক মূল্যে সীমাবদ্ধ নয়। এসব সামগ্রী খেলাধুলার ইতিহাস, স্মরণীয় সাফল্য এবং ভক্তদের আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকে।
চুরি যাওয়া স্মারক উদ্ধার করা গেলে সেগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এখন পর্যন্ত জার্সি ও আর্মব্যান্ড দুটির বিষয়ে নিশ্চিত কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মেসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই মূল্যবান স্মারক দুটি কোথায় রয়েছে, তা এখনো অজানা।