‘প্রত্যেক সন্তান চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে’ — আবেগঘন কথায় হামজা চৌধুরী

চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের তারকা খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী। আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়েটার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। অনুষ্ঠানস্থলে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের ভিড়ে বোঝা গেল, সময় যতই যাক, হামজাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস এখনো কমেনি একটুও।

তেজগাঁওয়ের রবি ভবনে প্রবেশ করতেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরলেন সাংবাদিকরা। কেউ করমর্দনে এগিয়ে এলেন, কেউবা সেলফি তোলার অনুরোধ জানালেন। হামজা সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বললেন, কারও অনুরোধই ফেলেননি। মুখে সবসময় সেই পরিচিত মৃদু হাসিটাই লেগে ছিল।

বাংলাদেশে আসলেই যে ভক্তদের ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে পড়েন, সেটি নিজেই স্বীকার করলেন তিনি। হামজা বলেন,

“আমি যে ভালোবাসা পাই, সেটা খুব যত্নে লালন করি। চেষ্টা করি সবাইকে সেই ভালোবাসার অংশীদার করতে। এই ভালোবাসাই আমাকে বারবার বাংলাদেশে ফিরতে টানে। আমার সন্তানরাও বলে, ওরা বাংলাদেশে ফিরতে চায়। ইনশাআল্লাহ, মার্চে ওরা আবার আসবে।”


⚽ আন্তর্জাতিক মঞ্চে হামজার যাত্রা

হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হয় ২০২4 সালের মার্চে, ভারতের শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ০-০ ড্র করে টুর্নামেন্ট শুরু করে। এরপর তিনি খেলেছেন মোট ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, যার মধ্যে একটি ছিল ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ।

বাংলাদেশের পরবর্তী দুটি ম্যাচ সামনে—

তারিখপ্রতিপক্ষস্থানসময়
13 নভেম্বরনেপাল (প্রীতি ম্যাচ)পল্টন জাতীয় স্টেডিয়ামরাত ৮টা
18 নভেম্বরএশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচপল্টন জাতীয় স্টেডিয়ামরাত ৮টা

🏆 দেশের গর্বের প্রতীক হামজা

বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির অধিনায়ক এই ফুটবলার বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে নম্বর ৮ পরে খেলেন। তিনি বলেছেন,

“প্রত্যেক সন্তান চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে।”

এই কথাটির মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে তাঁর পুরো যাত্রার গল্প। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা, এখন জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই—সবই তাঁর বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে।

বাংলাদেশে ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহও যেন হামজাকে ঘিরেই নতুন করে জেগে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক ম্যাচে মাত্র ৩ মিনিটে বিক্রি হয়ে গেছে ১৮,৩০০টি টিকিট, যা প্রমাণ করে ফুটবল আবারো দেশের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিচ্ছে।


💬 ‘আমি পুরো জাতিকেই গর্বিত করতে চাই’

হামজার পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায়। নিজের শিকড়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগভরা কণ্ঠে তিনি বলেন,

“আমার বাবা এই দেশেই জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন। তাঁদের মুখে হাসি দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। প্রতিটি সন্তানই চায় বাবা-মাকে গর্বিত করতে, আর আমি ভাগ্যবান—আমি পুরো জাতিকেই গর্বিত করতে পারছি।”

বাংলাদেশে ফুটবলের পুনর্জাগরণে হামজার ভূমিকা এখন অনস্বীকার্য। তাঁর উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা যেমন অনুপ্রাণিত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও আবার ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

হামজা চৌধুরী—আজ তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং বাংলাদেশ ফুটবলের গর্ব, প্রেরণা ও নতুন আশার প্রতীক।

Leave a Comment