ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো বিপুল রাজস্ব অর্জন করলেও মাঠের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে খরচের লাগামহীন বৃদ্ধি তাদের আর্থিক ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ মৌসুমে ক্লাবগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার লোকসানে পড়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।
একই মৌসুমে ক্লাবগুলোর মোট আয় রেকর্ড ৬০৮ কোটি পাউন্ডে (প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা) পৌঁছালেও খেলোয়াড় কেনা, উচ্চ বেতন এবং এজেন্ট ফি বাবদ ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে যায়। ফলে সামগ্রিকভাবে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়।
বিশেষ করে খেলোয়াড়দের বেতন এবং ট্রান্সফার বাজারের অতিমূল্যায়ন এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। গত মৌসুমে মোট বেতন ব্যয় দাঁড়ায় ৪০৪ কোটি পাউন্ডে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। অথচ একই সময়ে আয় বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭ শতাংশ।
Table of Contents
প্রধান ক্লাবগুলোর আর্থিক চিত্র
নিচের টেবিলে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ক্লাবের আর্থিক অবস্থার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| ক্লাব | সময়কাল | আর্থিক ফলাফল | পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| চেলসি | ২০২৪–২৫ মৌসুম | কর-পূর্ব লোকসান | ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড |
| টটেনহাম | ২০২৪–২৫ মৌসুম | লোকসান | ১২ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড |
| প্রিমিয়ার লিগ (মোট) | ২০২৪–২৫ মৌসুম | সম্মিলিত লোকসান | প্রায় ১০০ কোটি ডলার |
| ক্লাবগুলোর বেতন ব্যয় | ২০২৪–২৫ মৌসুম | মোট ব্যয় | ৪০৪ কোটি পাউন্ড |
| ক্লাবগুলোর আয় | ২০২৪–২৫ মৌসুম | মোট আয় | ৬০৮ কোটি পাউন্ড |
চেলসি তরুণ খেলোয়াড় কেনায় বিপুল বিনিয়োগের কারণে বড় লোকসানে পড়েছে। অন্যদিকে টটেনহাম আধুনিক স্টেডিয়াম ও ইউরোপা লিগে সাফল্য অর্জন করেও আর্থিক ক্ষতির বাইরে যেতে পারেনি।
হিসাবের বাইরে থাকা লেনদেন
কিছু ক্লাব আর্থিক ভারসাম্য দেখাতে অভ্যন্তরীণ লেনদেন ব্যবহার করেছে। নিউক্যাসল নিজেদের স্টেডিয়াম সেন্ট জেমস পার্ক সংশ্লিষ্ট মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে কাগজে লাভ দেখিয়েছে। একইভাবে এভারটন ও অ্যাস্টন ভিলা তাদের নারী দলকে মূল কোম্পানির কাছে বিক্রি করে আর্থিক হিসাব উন্নত করেছে।
ব্যয়ের চাপ ও বাজার প্রবণতা
নিউজ এজেন্সি এএফপি-র তথ্য অনুযায়ী ফুটবল অর্থনীতি বিশ্লেষক কিয়েরান ম্যাগুয়ার জানিয়েছেন, ক্লাবগুলোকে প্রতিযোগিতার কারণে অতিরিক্ত ব্যয় করতে উৎসাহিত করা হয়, বিশেষ করে ট্রান্সফার ফি ও বেতন কাঠামোয়। ফলে আর্থিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে।
গত গ্রীষ্মে প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবগুলো প্রায় ৩০০ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার খরচ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। লিভারপুল একাই আলেক্সান্দার ইসাককে ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডে দলে ভেড়ায় এবং মোট প্রায় ৪৫ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে।
মালিকানা ও বিনিয়োগ প্রবণতা
ম্যানচেস্টার সিটি, নিউক্যাসল, চেলসি এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসহ একাধিক ক্লাব এখন বৈশ্বিক ধনী ব্যক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৪ সালে জিম র্যাটক্লিফ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটি বড় অংশ কিনে ক্লাবটির মূল্যায়ন কয়েক বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করেন। চেলসি ২০২২ সালে একটি বড় বিনিয়োগ চুক্তির মাধ্যমে নতুন মালিকানায় আসে।
নতুন আর্থিক নিয়ম
আগামী মৌসুম থেকে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে, যেখানে ক্লাবগুলোর মোট ব্যয় তাদের আয়ের ৮৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর জন্য এই সীমা আরও কমিয়ে ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অপারেটিং খরচ এই নিয়মের বাইরে থাকায় বড় ধরনের আর্থিক চাপ পুরোপুরি কমবে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
