
ফিফার নিষেধাজ্ঞা ও লাইসেন্সিং জটে দেশের ফুটবলের সফল দল কিংস
মাঠে সাফল্যের মুকুট পরে থাকলেও মাঠের বাইরের জটিলতায় বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে দেশের ফুটবলের অন্যতম সফল দল বসুন্ধরা কিংস। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে ক্লাবটির কাঁধে চেপে বসেছে একের পর এক ফিফা নিষেধাজ্ঞা ও দাপ্তরিক বাধ্যবাধকতার পাহাড়। হাতে সময় একদম কম থাকায় এখন রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে ক্লাব কর্তাদের।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে কিংস। একের পর এক ট্রফি জিতে তারা নিজেদের করে তুলেছে অপ্রতিরোধ্য। তবে সেই সোনালী অর্জনের পাশেই এবার যুক্ত হয়েছে শঙ্কার কালো মেঘ। ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের বকেয়া বেতন ও আর্থিক বিরোধ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দলটির ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
শুরুতে এই নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা ছিল ১১টি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আরও একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে মোট ১২টিতে। ফিফার এই খড়্গ ঝুলে থাকায় ক্লাবটির নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে তারা কোনোভাবেই নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে পারবে না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে বেশ কয়েকটি ফ্রন্টে একসঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার জট খোলার পাশাপাশি তাদের পূরণ করতে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের যাবতীয় শর্ত এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলোয়াড় নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।
চলতি মৌসুমের ঘরোয়া ফুটবলের দলবদল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ১ জুন। কিন্তু কিংসসহ কয়েকটি ক্লাবের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় বাফুফেকে কয়েক দফা সময় বাড়িয়ে দলবদলের তারিখ পিছিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নিতে হয়। ইতিমধ্যে আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা আবাহনী তাদের ওপর থাকা তিনটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দুটির সমাধান করেছে এবং শেষটি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে কিংসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বেশ জটিল।
ঘরোয়া ফুটবলের এবারের দলবদল চলবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যেই আগস্টের শেষ সপ্তাহে নতুন মৌসুমের লিগ ও ফেডারেশন কাপ মাঠে গড়ানোর কথা রয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাফুফের নিয়মানুযায়ী আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে প্রতিটি ক্লাবকে ন্যূনতম ২৩ জন ফুটবলার নিবন্ধন করাতে হবে। নির্ধারিত এই ডেডলাইনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার বরফ না গললে বড় ধরনের ঘরোয়া সংকটে পড়তে পারে দলটি।
ফুটবল মাঠে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যেমন ম্যাচের ফল নিশ্চিত বলা যায় না, তেমনি কিংসের এই প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইয়ের ইতি টানতেও এখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দেশের ফুটবলের স্বার্থে এবং নিজেদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠবে কিংস—এমনটাই প্রত্যাশা দেশের কোটি ফুটবলপ্রেমীর।