
ফিফার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, স্বস্তি ফিরল আবাহনীতে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিষেধাজ্ঞার জাল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়েছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সফল ক্রীড়াপ্রতিষ্ঠান ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। ফিফার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুসংবাদ আসায় ক্লাব শিবিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরেছে। তবে আবাহনীর এই সংকট কাটলেও দেশের সামগ্রিক ঘরোয়া ফুটবলের অঙ্গনে নতুন করে নানান জটিলতা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতি এবং দল গঠনের প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা, ঠিক সেই সময়ে প্রশাসনিক ও কাগজপত্রের জটিলতা ক্লাবগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাওনা বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত মৌসুমের শুরু থেকেই বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছিল আকাশী-নীল শিবিরের ক্লাবটি। তৎকালীন সময়ে ফিফা আবাহনীর ওপর মোট তিনটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া ও দেনা পরিশোধের মাধ্যমে প্রথম দুটি নিষেধাজ্ঞা আগেই প্রত্যাহার করতে সক্ষম হয়েছিল ক্লাবটি। তবে সিরিয়ান এক পেশাদার ফুটবলারের বকেয়া পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না করায় দীর্ঘ সময় ধরে শেষ নিষেধাজ্ঞাটি বহাল ছিল। অবশেষে সেই বকেয়া অর্থও যথাসময়ে পরিশোধ করায় সোমবার ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শেষ নিষেধাজ্ঞাটিও প্রত্যাহার করে নিয়েছে। একই সাথে ফিফার অফিশিয়াল রেজিস্ট্রেশন ব্যান বা নিবন্ধনের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকেও ঢাকা আবাহনীর নামটি চিরতরে মুছে ফেলা হয়েছে। ক্লাব লাইসেন্সিংয়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে এমন ঘোষণায় ক্লাবের কর্মকর্তা ও সমর্থকদের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ফলে আগামী বুধবার থেকে ক্লাবটির সামনে নতুন ফুটবলার নিবন্ধনের দরজা উন্মুক্ত হতে চলেছে। তবে এত বড় স্বস্তির খবরের পরেও আবাহনীর সামনে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দল গঠনের সময়স্বল্পতা। গত বেশ কিছুদিন ধরে ক্লাবের নীতিনির্ধারক ও কর্তাব্যক্তিরা কেবল ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা কাটানোর দৌড়ঝাঁপ নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। ফলে স্থানীয় ও বিদেশি মানের খেলোয়াড় দলভুক্ত করার ক্ষেত্রে তারা ঐতিহ্যগতভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকা বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার বিকল্প হিসেবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং বসুন্ধরা কিংসের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবাহনী কতৃপক্ষ বাফুফের কাছে নিবন্ধনের সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়ার জোরালো আবেদন জানিয়েছে।
এদিকে ঘরোয়া ফুটবলের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা মর্যাদাপূর্ণ চ্যালেঞ্জ কাপ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। গত লিগ চ্যাম্পিয়ন দল বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ ঢাকা আবাহনীর মধ্যকার এই ম্যাচ দিয়ে নতুন মৌসুমের পর্দা ওঠার পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু দুই দলেরই ফিফা-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও খেলোয়াড় নিবন্ধন জটিলতা থাকায় ঐতিহ্যবাহী এই ম্যাচটির আয়োজন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে গত দুই মৌসুমে কিংস ও ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান এই ট্রফির লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিল এবং দুবারই শিরোপা জয় করেছিল বসুন্ধরা কিংস।
ঘরোয়া ফুটবলের নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২৫ আগস্ট ফেডারেশন কাপ এবং ২৮ আগস্ট থেকে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের ঘাড়ে এখনো ফিফার ১০টি নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে থমকে দিয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সাথে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বিশেষ সভায় ক্লাবটির প্রতিনিধি ও কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী নিষেধাজ্ঞার জট কাটাতে আরও সাত কার্যদিবস সময় চেয়েছেন। ফিফার তালিকা থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাবগুলো লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর।
চলমান দলবদলের নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু প্রাক-মৌসুমের নানা জটিলতার কারণে গত ১৯ আগস্ট নির্ধারণ করা প্রাথমিক নিবন্ধন সময়সীমা নিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি পেশাদার ক্লাবের পক্ষ থেকে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। ক্লাবগুলোর স্পষ্ট দাবি হলো, দলবদলের একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ বহাল রাখা হোক, যাতে তারা গুছিয়ে দল গঠন করতে পারে। ফিফার আপডেট করা নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বাংলাদেশের আরও কয়েকটি ক্লাবের নাম রয়েছে, যার মধ্যে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব এবং সকার ক্লাব ফেনী অন্যতম। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞার মারপ্যাঁচে পড়ে ফকিরেরপুল ক্লাবটি ছাড়পত্র বা অনুমতি পেলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দলবদলের কার্যক্রমে পুরোপুরি নামতে পারছে না।