
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মিশেল প্লাতিনির ফৌজদারি মামলা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি তথা ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (উয়েফা) সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্লাতিনির আইনজীবীদের মাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল অভিযোগ
মিশেল প্লাতিনির দাবি, ২০১৫ সালে তাকে ফিফা সভাপতির নির্বাচনী দৌড় থেকে অন্যায়ভাবে ছিটকে দেওয়ার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন এবং অবৈধ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে প্লাতিনির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়, যাতে তিনি ফিফার শীর্ষ পদে আসীন হতে না পারেন। এই কথিত ষড়যন্ত্রের ফলে তিনি তৎকালীন সময়ে ফিফা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন।
নতুন এই ফৌজদারি অভিযোগে বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন এবং দেশটির বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল লাউবার এবং ফিফার সাবেক আইনি প্রধান মার্কো ভিলিগার অন্যতম। প্লাতিনির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে একটি দেওয়ানি মামলা করারও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালেও মিশেল প্লাতিনি সুইস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ এনেছিলেন।
অতীত ইতিহাস ও আইনি জটিলতা
২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি হিসেবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নির্বাচিত হওয়ার আগে তিনি দীর্ঘ সময় উয়েফায় মিশেল প্লাতিনির অধীনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এক সময় সেপ ব্লাটারের উত্তরসূরি হিসেবে প্লাতিনিকেই ফিফার পরবর্তী সভাপতি পদের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও যোগ্য প্রার্থী মনে করা হতো। তবে ২০১৫ সালে একটি বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর তার সেই সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়।
তৎকালীন সময়ে ২০১১ সালে ফিফার পক্ষ থেকে প্লাতিনিকে প্রদান করা ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২০ লাখ ডলার) মূল্যের একটি অর্থপ্রদান নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। এই ঘটনায় ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটার এবং মিশেল প্লাতিনি—উভয়কেই উয়েফা ও ফিফার সব ধরনের ফুটবলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ক্রিমিনাল কোর্ট তাদের দুজনকে এই অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ খালাস দেয় এবং পরবর্তীতে আপিল আদালতেও তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অভিযোগ থেকে স্থায়ী অব্যাহতি পান।
নিচে মামলার বিবাদী, তাদের পদবি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সংক্ষিপ্ত বিবরণ একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিবাদী/অভিযুক্ত ব্যক্তি | তৎকালীন বা বর্তমান পদবি | মামলার মূল অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট |
| জিয়ান্নি ইনফান্তিনো | বর্তমান সভাপতি, ফিফা (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উয়েফা) | ২০১৫ সালে প্লাতিনিকে ফিফা সভাপতির দৌড় থেকে সরাতে প্রভাব বিস্তার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। |
| মাইকেল লাউবার | সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, সুইজারল্যান্ড | আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে প্লাতিনির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ। |
| মার্কো ভিলিগার | সাবেক আইনি প্রধান, ফিফা | প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি গ্যাঁড়াকলে ফেলে প্লাতিনির নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ। |
| অন্যান্য কর্মকর্তা (৫ জন) | সুইজারল্যান্ডের ফুটবল প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা | উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা আর্থিক অনিয়মের তদন্ত পরিচালনার অভিযোগ। |
প্যারিসে দায়ের করা মিশেল প্লাতিনির এই নতুন ও সংবেদনশীল অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাক্কালে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ দুই সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার এই আইনি লড়াই ফুটবল অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।