চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগের আগে বড় ধাক্কা খেল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন (পিএসজি)। মূল রাইটব্যাক আশরাফ হাকিমি এবং প্রথম পছন্দের গোলকিপার লুকাস শেভালিয়ের—দুজনেই ঊরুর চোটে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আগামী বুধবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় লেগে এই দুই তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে ফরাসি ক্লাবটিকে।
প্রথম লেগে পিএসজি নিজেদের মাঠে ৫-৪ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল, যা দুই দলের মধ্যে এখনো নাটকীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে রেখেছে। সেই ম্যাচেই বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার কনরাড লাইমারের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন হাকিমি। বদলি ব্যবহারের সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি চোট নিয়েও পুরো ম্যাচ খেলেন। ওই ম্যাচে তার পাস থেকেই গোল করেন খিচা কাভারাস্কাইয়া।
পিএসজির অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বায়ার্নের বিপক্ষে ম্যাচে ডান ঊরুতে আঘাত পাওয়ার কারণে হাকিমিকে আগামী কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। একই ধরনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে লুকাস শেভালিয়েরের ক্ষেত্রেও, যিনি অনুশীলনের সময় ঊরুর চোটে আক্রান্ত হন।
চোট সমস্যায় থাকা পিএসজির গোলপোস্টে প্রথম লেগে দায়িত্ব পালন করেন রুশ গোলকিপার মাতভেই সাফোনভ। শেভালিয়ের ছিলেন বেঞ্চে, তবে এখন তিনি অনিশ্চিত সময়ের জন্য বাইরে থাকায় গোলরক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে দলের জন্য।
চোট পাওয়া খেলোয়াড়দের অবস্থা
| খেলোয়াড়ের নাম | পজিশন | চোটের ধরন | পরিস্থিতি |
|---|---|---|---|
| আশরাফ হাকিমি | ডিফেন্ডার (রাইটব্যাক) | ডান ঊরুর চোট | কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে |
| লুকাস শেভালিয়ের | গোলকিপার | ঊরুর চোট | কয়েক সপ্তাহ মাঠের বাইরে |
হাকিমি পিএসজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে মরক্কো জাতীয় দলেরও প্রধান তারকা তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কোর জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আসন্ন বিশ্বকাপ ১১ জুন শুরু হবে এবং মরক্কো তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৩ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে।
ক্লাব ফুটবলে পিএসজি বর্তমানে লিগ আঁতে শীর্ষে অবস্থান করছে। ৩০ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা লেঁসের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে আছে। লুইস এনরিকের দল আগামী শনিবার লিগ ম্যাচে লঁরার মুখোমুখি হবে, এরপর তারা মিউনিখে ফিরতি লেগ খেলতে যাত্রা করবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একাধিক মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পিএসজির জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই সেমিফাইনাল লড়াইয়ে।
