ফুটবলের আইন [ Law of Football ]

ফুটবলের আইন নিয়ে আলোচনা করার আগে ফুটবল নিয়ে কিছু কথা বলা নেহায়েত অপ্রাসঙ্গিক হবে না। কেননা যে কোন খেলার আইন-কানুন জানার আগে সে খেলার ইতিহাস জানা দরকার। ইতিহাস জানা থাকলে আইন আরো সহজ হয়ে ওঠে। আর খেলা জানতে-শিখতে এবং দেখতে আইন জানা খুবই প্রয়োজন। আইন জানা থাকলে সে খেলা আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ফুটবলের আইন [ Law of Football ]

 

 

ফুটবলের আইন [ Law of Football ]

ফুটবলের কথা

 

পৃথিবীর অন্যান্য ফুটবল প্রিয় দেশের মত বাংলাদেশেও এ খেলার জনপ্রিয়তা শীর্ষে। ফুটবল সারা বিশ্বের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় করা। এ খেলার বিস্তৃতি ও ব্যাপ্তি সারা বিশ্ব ব্যাপি। অত্যাধিক জনপ্রিয়তার কারণেই তা সম্ভব হয়েছে । ফুটবল খেলা হয় না এমন দেশ পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। আজ সারা পৃথিবী শাসন করছে ফিফা।

ফুটবল একটি অতি প্রাচীন খেলা। কবে, কখন, কোথায় এ খেলার উৎপত্তি তা আজ খুঁজে বের করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। কে যে প্রথম ফুটবলে লাথি মারেন সে তথ্যও অনুদঘাটিত। কালের অতলে বিলীন হয়ে গেছে সে বিমূর্ত্ত মুহূএটি ফুটবলের বান্নের সঠিক দিন ক্ষণ খুঁজে বের করা না গেলেও এটি যে একটি অতি প্রাচীন খেলা তা নিয়ে সন্দেহ নেই ক্রীড়া গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন প্রাচীন জনপদ ও লোক কাহিনীতে ফুটবলের সাথে মিল আছে এমন খেলার বিবরণ পাওয়া যায়।

প্রাচীন কালে গ্রীস ও রোমের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ফুটবল খেলা হতো তার সাথে আজকের রাগবি ফুটবলের যথেষ্ট মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সুদূর মেক্সিকোতেও ফুটবল খেলার কথা শোনা যায়।

 

আইন 1 e1671269998593 ফুটবলের আইন [ Law of Football ]

 

ফুটবলের উৎপত্তি

আগেই বলা হয়েছে ফুটবল অতি প্রাচীন খেলা হওয়ায় এ খেলার উৎপত্তি নিয়ে যথেষ্ট মত পার্থক্য রয়েছে। সত্যিকারের ফুটবলের উৎপত্তিস্থল আজো সঠিকভাবে নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। মতভেদ থাকলেও ফুটবলের উৎপত্তির ব্যাপারে অনেক ক্রীড়া ঐতিহাসিককেই চীনের ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করতে দেখা যায়। ধারনা করা হয়, চীনেই প্রথম ফুটবলের আবিষ্কার ঘটে। তবে অনেককে আবার জাপানের নাম বলতে শোনা যায়।

মেক্সিকোতে ফুটবলের গোল হতো উঁচু দেয়ালে বা গাছের ডালে বাঁধা বলয়ের ভেতর দিয়ে বল ঢোকাতে পারলে ক্যানভাসের মাঝখানে একটা গোলাকার ছিদ্র হতো। গোল পোস্ট। এ খেলায় খোলোয়াড়ের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকতো না। ফলে একটা জটলার সৃষ্টি হতো।

রোমানদের মধ্যে ফুটবল ছিল সবচে’ জনপ্রিয়। তখন রোমানরা ফুটবল খেলাকে বলতো “হারপাসটাম”। ধারনা করা হয় রোমানরাই ফুটবলকে ইউরোপের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় প্রথম এবং এ খেলার বিস্তৃতি, প্রসার ও জনপ্রিয়তা দান করে। ফুটবলের মধ্য যুগে ইউরোপের ইতালিতে ফুটবল প্রভূত জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইতালির বিভিন্ন শহরে নিয়মিত ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

 

 

তবে এ সময় ফুটবলের আইন-কানুন না থাকায় মাঠের নির্দিষ্ট পরিসীমা এবং খেলোয়াড়ের সংখ্যা নির্ধারিত ছিল না। প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত থাকতো ফুটবল মাঠ। আর এতে অংশ নিত শত শত খেলোয়াড়। এই খেলা তখন ইতালিতে ‘মিলিস নামে সুপরিচিত ছিল। কোন নিয়মের আওতায় না থাকায় এই গণ খেলাটি প্রায়শই বিপদজনক অবস্থায় রূপ নিতো। ইতালি ছড়িয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও এ খেলা ছড়িয়ে পড়ে।

মধ্য যুগে ফুটবল যখন একটি বিপজ্জনক খেলায় রূপ নেয় তখন ঐ সব দেশের রাজন্যবর্গ বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েন। দেশের যুবকেরা ফুটবল খেলতে গিয়ে যদি আহত হয়ে পড়ে তাহলে তাদের সেনাদলে যথেষ্ট সংখ্যক সৈন্য পাওয়া যাবে না। ফলে রাজারা ফুটবল বন্ধের পাঁয়তারা করতে লাগলেন। কিন্তু জনগণ তাতে ক্ষান্ত হলো না। বরং ফুটবলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চললো।

সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকে ফুটবল খেলার অনুমতি দেয়া হয় ।

১৮৪৮ সালে এসোসিয়েশন ফুটবল বা সরকারের গোড়া পত্তন হয়। কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আন্তঃ স্কুল প্রতিযোগিতা শুরু করে। এছাড়াও যারা স্কুলে পড়ে না এমন উৎসাহীদের জন্য ফুটবল শেখার ব্যবস্থা করে। তারাই প্রথম ফুটবলের আইন। প্রনয়ন করে। এই আইনে হাতের ব্যবহার সীমিত করে দেয়া হয়। গোল পোস্ট তিনটি পোস্ট দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়। ১৮৫০ সালে ইংল্যান্ডের সেফিল্ডে প্রথম ফুটবলের ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৬০ সালে সকার এবং রাগবিকে পৃথক ফুটবলে বিভক্ত করা হয়।

১৮৬৩ সালে ইংল্যান্ডের ১১টি ফুটবল ক্লাবের প্রতিনিধি মিলিত হয়ে ফুটবল এসোসিয়েশন গঠন করে। ১৮৬৬ সালে এ্যাসোসিয়েশন ও শেফিল্ড ক্লাবের মধ্যে এক চুক্তি হয় ৷ এই আইন অনুসারে ১৮৬৯ সালে গোল কিক, ১৮৭২ সালে কর্ণার কিক ও ১৮৭৪ সালে খেলায় রেফারি নিযুক্ত করা হয়।

 

 

১৮৭২ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত এ ম্যাচে ইংল্যান্ড খেলে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে।

ইংল্যন্ডকে আধুনিক ‘ফুটবলের জনক’ বলা হয়। তারাই ফুটবলকে সারা বিশে ছড়িয়ে দেয় এবং জনপ্রিয় করে তোলে। এমনকি সেভিয়েত ইউনিয়ন, ব্রাজিলেও তারা ফুটবলকে নিয়ে যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পৃথিবীতে ফুটবল জনপ্রিয় হয়ে পড়ে।

১৯০৪ সালের ২১শে মে ফ্রান্সের প্যারিসে ইউরোপের ৭টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ফেডারেশন ইন্টারন্যশনাল দ্যা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন (ফিফা) গঠিত হয়। যা ফুটবলের ও নিয়ন্ত্রক।

১৯৩০ সালে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের। উরুগুয়ে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে। অলিম্পিকে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত হয় ১৯০৮ সালে। এশিয়ান গেমস ১৯৫১ সালে ইউরোপীয়ান কাপ ১৯৬০ সালে, বিশ্ব ক্লাব কাপ ১৯৬০ সালে এশিয়ান ক্লাব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ ১৯৬৭ সালে শুরু হয়।

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ফুটবল নতুন উদ্যোমে শুরু হয়। ফুটবলের উন্নয়নের জন্য গঠিত হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের তত্ত্বাবধানে ১৯৭ সালে ঢাকায় ফুটবল লীগ শুরু হয় তাছাড়া খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে পরবর্তীতে ফুটবল লীগ শুরু হয়। ১৯৭৩ সালে জাতীয় ফুটবল ও ৭৪ সালে জাতীয় যুব ফুটবল শুরু হয়। ১৯৮০ সালে ফেডারেশন কাপ ফুটবল শুরু হয়। এছাড়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল প্রতিযোগিতা ছাড়াও প্রতিটি জেলা ও থানা পর্যায়ে লীগ সহ বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আইনগুলোর বিস্তারিত:

আইনগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হলো। আইন গুলোর বিস্তারিত দেখতে লিংক এ ক্লিক করুন।

  • ১ নম্বর আইন – ফুটবল খেলার মাঠ
  • ২ নম্বর আইন – ফুটবল খেলার বল
  • ৩ নম্বর আইন – ফুটবলের খেলোয়াড় সংখ্যা
  • ৪ নম্বর আইন – ফুটবল খেলোয়াড়ের সাজ সরঞ্জাম
  • ৫ নম্বর আইন – ফুটবল খেলার রেফারি
  • ৬ নম্বর আইন – ফুটবল খেলার লাইন্সম্যান
  • ৭ নম্বর আইন – ফুটবল খেলার স্থিতিকাল
  • ৮ নম্বর আইন – ফুটবল খেলা আরম্ভ
  • ৯ নম্বর আইন – ফুটবল বল খেলার মধ্যে ও বাইরে
  • ১০ নম্বর আইন – ফুটবলের গোল করার নিয়ম
  • ১১ নম্বর আইন – ফুটবলের অফসাইড
  • ১২ নম্বর আইন – ফুটবলের অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহার
  • ১৩ নম্বর আইন – ফুটবলের ফ্রি কিক
  • ১৪ নম্বর আইন – ফুটবলের পেনাল্টি কিক
  • ১৫ নম্বর আইন – ফুটবলের থ্রো ইন
  • ১৬ নম্বর আইন – ফুটবলের গোল কিক
  • ১৭ নম্বর আইন – ফুটবলের কর্ণার কিক

 

Leave a Comment