ফুটবল খেলার মাঠ । ফুটবল খেলার প্রথম আইন । খেলাধুলার আইন

আজ আমরা আলাপ করবো, ফুটবল খেলার মাঠ বিষয়ক, ফুটবল খেলার আইন নিয়ে। ফুটবল খেলার মাঠ বিষয়ক আইনটি, ফুটবলের আইনের জগতে প্রথম আইন। এই আইনে সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা আছে বিভিন্ন ধরণের ফুটবল খেলায় মাঠের আকার প্রকার কিরূপ হবে। মাঠের মধ্যের লাইন গুলো কিরকম হবে তাও সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে।

ফুটবল খেলার মাঠ । ফুটবল খেলার প্রথম আইন । খেলাধুলার আইন

খেলার মাঠ

খেলার মাঠ অবশ্যই সমতল এবং সমকোণী চতুর্ভূজ হবে। এই চতুর্ভূজ মাঠ নিম্নরূপঃ

(ক) ১০৯.৮×৭৩২ মিটার বা ১২০x৮০ গজ।

(খ) ১০৫ 22×৬৮ ৬৩ মিটার বা ১১৫×৭৫ গজ।

(গ) ১০০ ৬৫×৬৪ ০৫ মিটার বা ১১০x৭০ গজ।

(ঘ) ৯১.৫×৫৪.৯ মিটার বা ১০০x৬০ গজ। (ছোটদের জন্য )

বিঃদ্রঃ বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার ১০৫ 22×৬৮.৬৩ মিটার বা ১১৫×৭৫ গজ অথবা ১০০ ৬৫×৬৪ ০৫ মিটার – বা ১১০x৭০ গজ মাঠ হয়ে থাকে।

 

টাচ লাইন

সমকোণী চতুর্ভূজ মাঠের লম্বা দুই বাহুকে টাচ লাইন বলে । এই টাচ লাইন ০.৭-০. ১২মিটার বা ৩-৫ ইঞ্চি চওড়া হবে এই টাচ লাইনকে মাঠের ভেতরের অংশ ধরা হয়।

গোল লইন

সমকোণী চতুর্ভূজের দুই বাহুকে গোল লাইন বলে । এই গোল লাইন ০ ৭ ০ ১২মিটার বা ৩-৫ ইঞ্চি চওড়া হবে এবং এই গোল লাইনকে মাঠের ভেতরের অংশ বলে ধরা হবে।

সেন্টার লাইন

খেলার মাঠ সমভাবে দ্বিখন্ডিত করার জন্য মাঠের ঠিক মাঝামাঝি টাচ্ লাইনের মধ্য বিন্দু থেকে অপর পাশের টাচ লাইনের মধ্য বিন্দু পর্যন্ত একটি রেখা টানা হয়। এই রেখাকে সেন্টার লাইন বলে। প্রতিটি রেখা একই মাপের হতে হবে।

সেন্টার সার্কেল

সেন্টার লাইনের মধ্য বিন্দুকে কেন্দ্র করে ৯ ১৫ মিটার বা ১০ গজ বাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্ত আঁকা হয় সেন্টার সার্কেলের মধ্য বিন্দু থেকে প্রারম্ভিক কিক দিয়ে খেলা আরম্ভ হয়। খেলা আরম্ভকারী দলের খেলোয়াড় মধ্য বিন্দুতে রাখা বলের পিছনে দন্ডায়মান থাকে এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়েরা সেন্টার সার্কেলের বাইরের নিজ এলাকায় দাঁড়িয়ে প্রারম্ভিক কিকের অপেক্ষায় থাকবে।

 

গোলপোষ্ট

গোল লাইনের মধ্য বিন্দুকে কেন্দ্র করে দু’পাশে ৩৬৬ মিঃ বা ৪ গজ করে দূরে গোল লাইনের উপর ৭.৩২ মিঃ বা ৮ গজ দূরত্বে দু’টি গোলপোস্টের খুঁটি বসানো হয়। খুঁটির উপর দুই মাথা আঁড়খুঁটি দিয়ে যুক্ত করার পর মাটি থেকে আড়খুঁটির নিচ পর্যন্ত উচ্চতা ২.৪৪ মিঃ বা ৮ ফুট হয়. খুঁটি এবং আঁড়খুঁটি ০ ৭-০ ১২ মিটার বা ৩-৫ ইঞ্চির কম বা বেশি চওড়া হবে না। গোলপোস্টের খুঁটি ও আঁড় খুঁটি কাঠের বা ইস্পাতের হতে পারে।

গোল এরিয়া

গোল লাইনের সাথে সমকোণ করে গোল লাইনের উপর ডান দিকে ৫.৫ মিটার বা ৬ গঞ্জ ও বাঁ দিকে ৫.৫ মিটার। বা ৬ গজ লম্বা দুটি সরল রেখা টেনে রেখা দুটিকে মাঠের ভেতরের দিকে গোল লাইন সমান্তরাল আরেকটি রেখা। দিয়ে যুক্ত করা হয় এই তিন রেখা এবং আংশিক গোল। লাইনের জায়গার নাম ‘গোল এরিয়া’।

পেনাল্টি এরিয়া

গোল লাইনের সাথে সমকোণ করে গোল পোষ্টের গোল লাইনের উপর ডান দিকে ১৬.৫ মিটার বা ১৮ গজ এবং বাঁ দিকে ১৬.৫ মিটার বা ১৮ গজ দূরে মাঠের ভেতরের ১৬.৫ মিটার বা ১৮ গজ লম্বা দুটি সরল রেখা টেনে রেখা দুটিকে মাঠের ভেতরের দিকে গোল লাইনের সমান্তরালে আরেকটি রেখা দিয়ে যুক্ত করা হয়। এই তিন রেখা এবং আংশিক গোল লাইনের ভেতরের জায়গার নাম ‘পেনাল্টি এরিয়া।

পেনাল্টি স্পট

গোল পোস্টের মধ্য বিন্দু অথবা গোল লাইনের মধ্য বিন্দু থেকে সমান্তরাল করে মাঠের ভেতরের দিকে ১১মিঃ বা ১২ গল্প দূরে একটি জায়গা বিন্দু দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। এর নাম ‘পেনাল্টি স্পট। এটাই পেনাল্টি কিক মারার চিহ্নিত স্থান।

পেনাল্টি আর্ক

পেনাল্টি স্পটকে কেন্দ্র করে ৯.১৫ মিটার বা ১০ গ ব্যাসার্ধ নিয়ে পেনাল্টি এরিয়ার বাইরে মাঠের ভেতরে একটি বৃত্তচাপ আঁকা হয় এর নাম ‘পেনাল্টি আর্ক।

 

কর্ণার এরিয়া

চতুর্ভুজ মাঠের প্রতিটি কোণাকে কেন্দ্র করে মাঠের ভেতরের দিকে ০ ৯২ মিটার বা ১ গজ ব্যাসার্ধ নিয়ে গোল লাইন ও টাচ লাইন ছুঁয়ে একটি বৃত্তাংশ আঁকা হয়। ১ গজ ব্যাসার্ধের প্রতি বৃত্তাংশের ভেতরের জায়গার নাম কর্ণার এরিয়া। কর্ণার কিক মারার সময় কর্ণার এরিয়ার ভেতরে বল বসাতে হয়। টাচ্ ও গোল লাইনের মিলিত চার কেন্দ্র কোণের প্রতি কোণে মাটির উপরে কমপক্ষে ১.৫ মিটার বা ৫ ফুট উঁচু করে ০.২৫ মিঃ বা ১ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের দন্ডের ওপর একটি করে পতাকা থাকবে।

সেন্টার লাইনের বরাবর উভয় দিকের টাচ লাইনের ১মিঃ বা ১ গজ দূরে কোণার পতাকার অনূরূপ ১ টি করে পতাকা বসানো হয় সৌন্দর্যের জন্য। এটা না বসালেও চলে।

মাঠের সাজ-সজ্জা

গোল লাইন, টাচ লাইন, পেনাল্টি আর্ক, কর্ণার এরিয়া গোল এরিয়া, পেনাল্টি এরিয়া, সেন্টার সার্কেল, এক কথায় মাঠের সমস্ত রেখা সাদা রং বা চুন দিয়ে ০.১২ মিঃ বা ৫ ইঞ্চির বেশি বা ০৭মিঃ বা ৩ ইঞ্চির কম চওড়া করে আঁকা যাবে না। মাঠের সমস্ত দাগ (গোল পোস্টসহ) এক মাপের হবে। অর্থাৎ ৭ মিঃ নচেৎ ১২ মিঃ। মাঠের সমস্ত লাইন ও গোল পোস্টের খুঁটি, আড় খুঁটি এবং কোনার পতাকা দন্ড খেলার মাঠের অংশ বলে গণ্য হবে। গোল পোস্টের পেছন দিকে মাঠ সংলগ্ন জাল থাকে। ভাগ এমনভাবে টানানো হয় যাতে গোল কিপারের চলাফের করতে কোন অসুবিধা না হয়।

Leave a Comment