ফুটবল খেলার লাইন্সম্যান । ফুটবল খেলার ষষ্ঠ আইন । খেলাধুলার আইন

ফুটবল খেলার লাইন্সম্যান । ষষ্ঠ আইন

 

ফুটবল খেলার লাইন্সম্যান । ফুটবল খেলার ষষ্ঠ আইন । খেলাধুলার আইন

একটি খেলায় দুজন লাইন্সম্যান থাকবেন। তাদের কর্তব্য হবে কখন বলটি খেলার বাইরে গেল তা পতাকা দিয়ে সংকেত দেয়া এবং কোন মল ব্রোইন করবে, গোল কিক হবে না কর্ণার-কিক হবে বা অফসাইড হবে সেগুলো রেফারিকে জানানো।

লাইন্সম্যানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

(ক) খেলা আরম্ভ হওয়ার আগেই রেফারির কাছে হাজিরা দিয়ে নির্দেশ গ্রহণ করা।

(খ) লাইন্সম্যান আইন অনুযায়ী খেলা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রন করতে রেফারিতে সকল রকম সাহায্য সহযোগিতা করবেন।

(গ) প্রতিযোগী দলকে সময়মত মাঠে নামাবেন।

(ঘ) রেফারির সিদ্ধান্তে সন্দেহ বা দ্বিমত পোষণ না করে প্রশ্নাতীতভাবে তা মেনে নেয়া।

(ঙ) খেলা চলাকালে কোন ঘটনা রেফারির দৃষ্টি এড়িয়ে গেলে লাইন্সম্যান তৎক্ষনাৎ পতাকা উত্তলন করে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে মতামত জানাবেন। রেফারি লাইন্সম্যানের মতামত গ্রহণ করতেও পারেন, নাও করতে পারেন। কারণ সব ব্যাপারে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(চ) প্রয়োজন ছাড়া লাইন্সম্যান পতাকা নিচের দিকে নামিয়ে রাখবেন।

(ছ) খেলোয়াড়ের দুর্ব্যবহার ও অসদাচরণের জন্য পতাকা তুলে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

 

(জ) এক সমকোণী একটি পুরো টাচ লাইন এবং পুরো একটি গোল লাইনের কাছাকাছি ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা একদিকের লাইন্সম্যানের দায়িত্ব। তার দায়িত্ব হলো এলাকার কোণ থেকে পার্শ্ব রেখা ধরে সেন্টার লাইন পর্যন্ত এসে পুরো টাচ লাইন ও কোণ থেকে গোল লাইন-এর খেলার প্রতি খেয়াল রাখা। একইভাবে অন্য দিকের লাইন্সম্যানের দায়িত্ব হবে অপর অর্ধাংশে অবস্থান করে তার টাচ লাইন ধরে সেন্টার লাইন পর্যন্ত এবং প্রথমোক্তর বিপরীত দিকের টাচ গোল লাইন ধরে পুরোপুরি দেখা।

(ঝ) খেলার প্রারম্ভে রেফারির ঘড়ির সাথে লাইন্সম্যানের ঘড়ি মিলিয়ে নেয়া।

(ঞ) লাইন্সম্যানের সংকেত পাওয়া সত্ত্বেও রেফারি খেলা চালিয়ে গেলে বুঝতে হবে রেফারি সংকেত প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংকেত প্রত্যাহার করে নেবেন।

(ট) অফসাইড নির্ণয়ের জন্য গোলরক্ষক ব্যতিরেকে রক্ষণের শেষ খেলোয়াড়ের সমান্তরাল দৌড়ানো।

(ঠ) লাইন্সম্যানের দায়িত্ব পালনে ও মতামত প্রকাশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।

(ড) কোন বিতর্কমূলক ঘটনার উপর রেফারি তার সাথে পরামর্শ করলে মতামত দেয়া এবং রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া।

(ঢ) খেলা পরিচালনায় বাঁধার সৃষ্টি করলে, বার বার পক্ষপাতমূলক সংকেত দিলে অথবা অন্যায় আচরণ করলে রেফারি তাকে বাদ দিয়ে অন্য লোক নিয়োগ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে লাইন্সম্যানের বিরুদ্ধে রেফারি নিজ মন্তব্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পেশ করবেন।

 

লাইন্সম্যানের সংকেত দেবার নিয়ম

(ক) রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য লাইন্সম্যান পতাকা মাথার উপর তুলে আনুমানিক তিন সেকেন্ড দাঁড়াবেন বা তিন পদক্ষেপ (স্টেপ) দৌড়াবেন।

(খ)গোল কিকের সংকেত পতাকা দিয়ে গোল কিকের স্থান দেখাবেন ।

(গ) কর্নার কিকের সংকেত পতাকা দিয়ে কর্ণার কিকের স্থান দেখাবেন।

(ঘ) অফসাইড মাঠের অপর পাশে হলে পতাকা উঁচু করে অফসাইডের স্থান দেখাবেন।

(ঙ) মধ্য মাঠে হলে কাঁধের সমান্তরালে এবং সামনে হলে পতাকা নিচু করে অফসাইডের স্থান দেখাবেন।

(চ) যে পক্ষ থ্রো ইন করার সুযোগ পায়, তাদের বিরুদ্ধ দলের দিকে পতাকা দিয়ে দেখাবেন। বিরুদ্ধ দল লাইন্সম্যানের ডান পাশে থাকলে পতাকা ডান হাতে নিয়ে ডান দিকে এবং বাম পাশে থাকলে পতাকা বাম হাতে নিয়ে বাম দিকে সংকেত দেবেন।

(ছ) অফসাইড, ফাউল, হ্যান্ডবল, থ্রো ইন, গোল কিক, কর্ণার কিক হলে পতাকা সোজাসুজি মাথার উপর তুলে সংকেত দেখিয়ে তড়িৎগতিতে দিক নির্দেশ করবেন।

(জ) খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড় পরিবর্তনের প্রয়োজনে স্ট্যান্ডবাই রেফারি খেলোয়াড় বদলির সংকেত দেবার সাথে সাে লাইন্সম্যানদ্বয় তাদের পাতাকা মাথার উপর দু’হাত দিয়ে তুলে ধরে রেফারির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।

(ঝ) খেলা চলাকালীন সময় কোন খেলোয়াড় আহত হলে উক্ত খেলেয়াড়ের প্রশিক্ষক/ডাক্তার অথবা বেয়ারার মাঠে থাকা অবস্থায় রেফারি যাতে খেলা আরম্ভ না করতে পারেন সে জন্য লাইন্সম্যানদ্বয় তাদের পতাকা মাথার উপর ভুলে রাখবেন যে পর্যন্ত মাঠ পরিষ্কার না হয়।

 

চতুর্থ বা স্ট্যান্ডবাই রেফারির দায়িত্ব ও করণীয়

ফুটবল খেলা সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রন করার জন্য চতুর্থ বা স্ট্যান্ডবাই রেফারির প্রবর্তন করা হয়েছে।

(ক) খেলার অতিরিক্ত ফুটবল, বদলি খেলোয়াড়ের নম্বর প্লেট ও দু’দলের খেলোয়াড়ের তালিকা তার নিকট থাকবে ।

(খ) খেলা আরম্ভের সাথে সাথে রেফারির ঘড়ির সাথে নিজের ঘড়ি মিলিয়ে নেবেন।

(গ) খেলা চলাকালে গোলদাতার নাম, বদলি খেলেয়াড়ের নাম ও হলুদ বা লাল কার্ড প্রাপ্ত খেলোয়াড়ের নাম ও সময় লিখে রাখবেন।

(ঘ) বদলি খেলোয়াড়কে মাঠ হতে উঠানো ও নামানোর ব্যবস্থা করা ।

(ঙ) খেলোয়াড় আঘাতপ্রাপ্ত হলে রেফারির অনুমতি ছাড়া কেউ যেন মাঠে প্রবেশ করতে না পারে সে দিকে দৃষ্টি রাখা।

(চ) টাইব্রেকার হলে প্রতিদ্বন্দ্বি দলের প্রশিক্ষকের নিকট হতে পেনাল্টি মারার জন্য খেলোয়াড়ের তালিকা নিয়ে রেফারিকে পৌঁছানো।

(ছ) টাইব্রেকারের সময় রেফারি চতুর্থ রেফারিকে যে দায়িত্ব দেবেন তা সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন।
(জ) খেলা চলাকালীন সময়ে তিনি সদাসর্বদা সম্পূর্ণ মাঠের খেয়াল রাখবেন এবং রেফারির নির্দেশ মোতাবেক কাজ করবেন ।

(ঝ) খেলোয়াড় বদলির সময় বদলি খেলোয়াড় মাঠের বাইরে না আসা পর্যন্ত অপর বদলি খেলোয়াড় যেন মাঠে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য, রাখবেন।

 

(ঞ) চতুর্থ রেফারি খেলা চলাকালে রেফারির সংকেতের দিকে দৃষ্টি রাখবেন ।

(ট) প্রতিযোগী দলের প্রশিক্ষক বা কর্মকর্তা টাচ্‌ বা গোল লাইনের নিকট হতে যাতে নিজ নিজ দলকে প্রশিক্ষন কিংবা উপদেশ না দিতে পারেন সে দিকে দৃষ্টি রাখবেন।

(ঠ) খেলা চলাকালীন সময়ে লাল কার্ড প্রাপ্ত খেলোয়াড়কে ড্রেসিং রুমে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন ।

Leave a Comment