আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহও বাকি নেই। এই চরম মুহূর্তেই মেক্সিকোর তিনটি প্রধান বিমান চলাচল সংস্থা মধ্য আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের যাত্রীদের ওপর সাময়িক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শুক্রবার এই বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করা হয়। মধ্য আফ্রিকার ওই অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে অত্যন্ত মারাত্মক ও প্রাণঘাতী ইবোলা রোগের প্রাদুর্ভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণে স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোর নিষেধাজ্ঞা ও সময়সীমা
মেক্সিকোর সবচেয়ে বৃহত্তম এবং প্রধান বিমান চলাচল সংস্থা ‘অ্যারোমেক্সিকো’ তাদের দাপ্তরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যেসব যাত্রী গত ২১ দিনের মধ্যে উগান্ডা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অথবা দক্ষিণ সুদানে অবস্থান করেছেন বা ভ্রমণ করেছেন, তাদেরকে বিমানে করে মেক্সিকোর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, মেক্সিকোর স্বল্প খরচের দুটি বিমান সংস্থা ‘ভিভা’ এবং ‘ভোলারিস’ তাদের নিজ নিজ আন্তর্জাতিক আকাশপথে একই ধরণের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। বিমান সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে।
আক্রান্ত দেশের অংশগ্রহণ ও কঙ্গোর প্রস্তুতি
বর্তমানে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র অত্যন্ত ভয়াবহভাবে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই চরম সংকটের মধ্যেও দেশটি আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে। ক্রীড়াসূচি অনুযায়ী, কঙ্গো ফুটবল দল তাদের প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে খেলবে। ফুটবল দলের সদস্যরা বর্তমানে ইউরোপের দেশ বেলজিয়ামে তাদের নিবিড় অনুশীলন ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে কঙ্গো দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য টেক্সাসের হিউস্টন শহরে অবস্থান করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতাটি কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে, যার উদ্বোধনী ম্যাচটি আগামী ১১ই জুন মেক্সিকো সিটিতে স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
ইবোলা প্রাদুর্ভাবের বর্তমান পরিসংখ্যান ও ভাইরাসের ধরণ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে কঙ্গোর বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি এবং ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণের একটি সুনির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত পরিসংখ্যানগত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী কঙ্গোর বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি নিচে একটি সারণির মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণের পরিমাপক | বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন সংখ্যা |
| নিশ্চিত হওয়া মৃত্যুর সংখ্যা (১৫ মে থেকে) | ১৭ জন |
| সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা | ২২৩ জন |
| ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা | ১২৫ জন |
| চিকিৎসাধীন সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা | ৯০০ জনেরও বেশি |
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফ্রিকায় এবারের ভয়াবহ প্রকোপের জন্য মূলত ‘বান্দিবুগিও’ নামক বিশেষ ধরণের ইবোলা ভাইরাসকে দায়ী করা হয়েছে। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য মতে, এই নির্দিষ্ট ধরণের ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো কোনো কার্যকরী প্রতিষেধক বা টিকা এবং সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি এখন পর্যন্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানে আবিষ্কৃত হয়নি। এই চিকিৎসার অনুপস্থিতিই মূলত মেক্সিকো সরকারকে তাদের দেশে ভাইরাসের প্রবেশ ঠেকাতে এমন কঠোর ও বিশেষ আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
