ফুটবল বিশ্বে স্বপ্নপূরণ এবং স্বপ্নভঙ্গের এক সপ্তাহ !!!
২০২২ সালের শেষের দিকে বসতে যাচ্ছে “দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপ। আগামী মাসের প্রথম দিকেই প্রকাশিত হবে, আসন্ন বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি। তবে, গত এক সপ্তাহে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নপূরণ হয়েছে কারো, আবার হয়েছে কারো স্বপ্নভঙ্গ।
২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইতালি। আসন্ন কাতার বিশ্বকাপেও খেলা হবে না তাদের। প্লে-অফ সেমিফাইনালে আরও একটা সুযোগ ছিল। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও নতুন দল উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে গেছে ইতালি। এর মধ্য দিয়ে টানা দুটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলো তারা। অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তের গোলে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাস চলছে মেসিডোনিয়ান শিবিরে।
অথচ, সে ম্যাচে ম্যাচের পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েছে ইতালি। ৬৬ শতাংশ সময় বলের দখল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বারবার চেষ্টা করেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন দলটির ফরোয়ার্ডরা। মেসিডোনিয়ার দেয়াল ভাঙতে পারেননি তারা। উল্টো অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল খেয়ে বসে ইতালি। ফলে ১-০ গোলে ম্যাচটি জিতে নেয় উত্তর মেসিডোনিয়া।
এবারের, বিশ্বকাপে খেলতে পারবে না আফ্রিকান ফুটবল পরাশক্তি নাইজেরিয়াও।
কাল নিজেদের মাঠ আবুজায় ঘানার বিপক্ষে আফ্রিকান প্লে–অফের দ্বিতীয় লেগ ১-১ গোলে ড্র করেছে নাইজেরিয়া। ঘানার কুমাসিতে প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। ফলে অ্যাওয়ে গোলে নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছেন ‘ব্ল্যাক স্টার’ ঘানা।
এদিকে আবুজায় কাল নাইজেরিয়ার বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাপক গোলযোগ হয়েছে স্টেডিয়ামে। ক্ষিপ্ত সমর্থকেরা মাঠে ঢুকে ডাগআউট ও বিজ্ঞাপন হোর্ডিং ভাঙচুর করে। দলকে উদ্দীপ্ত করতে এই ম্যাচে ২০ হাজার টিকিট বিনা মূল্যে সমর্থকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল।
[ ফুটবল বিশ্বে স্বপ্নপূরণ এবং স্বপ্নভঙ্গের এক সপ্তাহ ]
গোলযোগের মাত্রা এতটাই ছিল যে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে উদ্যাপনেরও সাহস দেখাতে পারেনি ঘানাইয়ান দল। আবুজার স্টেডিয়ামে উপস্থিত ঘানার হাজার দুয়েক সমর্থককেও নিরাপত্তাবেষ্টনীতে নিতে হয়।
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ খেলতে পারবে না মোহাম্মদ সালাহের মিসরও। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ প্লে-অফের প্রথম লেগ জিতে সে দৌড়ে বেশ খানিকটা এগিয়েও গিয়েছিল সালাহর দেশ। নেগালের ডাকারে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ৯০ মিনিট শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে রইলো সেনেগাল। দুই লেগ মিলিয়ে ১-১ গোলে সমতা কাটাতে ম্যাচ গড়াল পেনাল্টি শুটআউটে। পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ পেলেন সালাহ। । পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলেন না মিসরের সবচেয়ে নামকরা ফুটবল-সন্তান। মিসরের আক্ষেপ বাড়িয়ে সেনেগালকে বিশ্বকাপে নিয়ে গেলেন মানে।
বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে পারেনি রিয়াদ মাহরেজের আলজেরিয়াও। প্রথম লেগে ক্যামেরুনের লিম্বেতে স্ট্রাইকার ইসলাম স্লিমানির গোলে জয় পায় আলজেরিয়া। আলজেরিয়ার মাঠে দ্বিতীয় লেগের ২২ মিনিটে স্ট্রাইকার এরিক-মাক্সিম চুপো-মোতিংয়ের গোল এগিয়ে যায় ক্যামেরুন। দুই লেগ মিলিয়ে তখন দুই দলেরই একটি করে গোল (অ্যাওয়ে), ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৮ মিনিটে গোল করে ম্যাচে সমতা আনার পাশাপাশি দুই লেগ মিলিয়ে দলকে এগিয়ে দেন আলজেরিয়ান ডিফেন্ডার আহমেদ তুবা।
কিন্তু আলজেরিয়ানদের স্বপ্নভঙ্গ হতে পাঁচ মিনিটও লাগল না। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ক্যামেরুনের হয়ে গোল করেন লিওঁর উইঙ্গার কার্ল-তোরো একাম্বি। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইনে সমতা থাকলেও অ্যাওয়ে গোলের হিসাবে এগিয়ে যায় ক্যামেরুন। আর সেটাই কাল হয় আলজেরিয়ার জন্য।
খেলা শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায় আলজেরিয়া নয়, বরং কাতার বিশ্বকাপের স্বাদ পাচ্ছে ক্যামেরুন।
এদিকে উত্তর মেসিডোনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।
পোর্তোয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব প্লে অফ ফাইনালে উত্তর মেসিডোনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে পর্তুগাল।
ম্যাচের দুই অর্ধে একটি করে গোল করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ। প্রথম গোলটিতে দারুণ সহায়তা করেন তাঁর ক্লাব সতীর্থ রোনালদো।
প্লে অফ সেমিফাইনালে ইতালিকে হারিয়ে চমকে দেওয়া উত্তর মেসিডোনিয়ার স্বপ্নরথ থেমে গেল ফাইনালেই। ফার্নান্দেজকে বাহবা দিতে পারেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। জোড়া গোল, ৫৫টি পাসের মধ্যে ৪৭টি সতীর্থের কাছে এবং মাঠ দাপিয়ে খেলা তো আছেই। প্রথমার্ধের শুরুতেই রোনালদো-ফার্নান্দেজরা বুঝিয়ে দেন, গোল যত দ্রুত সম্ভব আদায় করতে চায় পর্তুগাল।
এছাড়াও, বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি ইব্রাহিমোভিচের সুইডেন। ইডেনের বিপক্ষে প্লে-অফে ২-০ গোলে জিতে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে পোল্যান্ড। লেভানডফস্কির পাশাপাশি গোল করেছেন নাপোলির মিডফিল্ডার পিওতর জিয়েলিনস্কি। সুইডেনের আলেকসান্দর আইজ্যাক, ইব্রাহিমোভিচের মতো তারকারা হতাশ দৃষ্টিতে দেখেছেন লেভানডফস্কিদের জয়োল্লাস।
লেভানডফস্কি বলেন, ” আমাদের অনেক সমস্যা ছিল ম্যাচের আগে। আমাদের অনেক খেলোয়াড় চোটাক্রান্ত ছিল। আমার নিজেরও চোট ছিল। আমার হাঁটুতে সমস্যা ছিল একটু। আমরা অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমরা উদযাপন করতে পারি। আমি গর্বিত ও খুশি।”
