
বিজয়ের প্যারেডে ট্রাম্পকে তরেসের অভিনব খোঁচা: মাদ্রিদে ফিরেই তোলপাড়
বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনে তখন গোটা মাদ্রিদ মুখরিত। স্প্যানিশ জাতীয় দলের ট্রফি প্যারেড ঘিরে লাল-হলুদের জোয়ার নেমেছিল শহরের রাজপথে। হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত সমর্থকের সামনে স্পেনের এই জয়ের নায়ক ফেররান তরেস ধরা দিলেন এক ভিন্ন রূপে। মাথায় লাল রঙের বেসবল টুপি, আর তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা—‘মেক স্পেন গ্রেট এগেইন’। বার্সেলোনা তারকা ফেররান তরেসের এই বিশেষ বার্তা নিয়ে এখন ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। স্পষ্টতই, সাবেক ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত রাজনৈতিক স্লোগানের প্যারোডি বানিয়ে তাকে কড়া এক বার্তা পাঠালেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
ফাইনালের মহারণে স্পেনের জয়সূচক গোলটি এসেছিল তরেসের পা থেকেই। কিন্তু শিরোপা জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সৃষ্টি হয়েছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বস্তিকর পরিবেশ। স্পেন দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই সোনালী মুহূর্তে স্প্যানিশ ফুটবলারদের ঠিক মাঝখানেই অবস্থান করতে দেখা যায় তাকে। ফুটবলাররা শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসতে চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনড় অবস্থান নিয়ে তখনই বেশ গুঞ্জন উঠেছিল। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত উদ্যাপনের মুহূর্তে রাজনীতিকদের এমন উপস্থিতি ইতিবাচকভাবে নেননি তরেস, আর তাই হয়তো ঘরের মাঠে ফিরে এমন মোক্ষম জবাব বেছে নিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপজুড়ে ট্রাম্পের বিতর্কিত উপস্থিতি
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই ট্রাম্পের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলেছে সমানতালে। যুক্তরাষ্ট্রের পঁয়তাল্লিশতম ও সাতচল্লিশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কার্যক্রম ও মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের অনেকের কাছেই স্বস্তিদায়ক ছিল না। তবে এই আসরের সাথে ট্রাম্পের যোগাযোগ নতুন কিছু নয়:
২০১৭ সালের বিড: যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রাথমিক বিডিং প্রক্রিয়ায় প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
পিস প্রাইজ বিতর্ক: টুর্নামেন্ট চলাকালীন ফিফার নবপ্রবর্তিত ‘ফিফা পিস প্রাইজ’ তুলে দেওয়া হয় ট্রাম্পের হাতে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও ক্রীড়া বোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ: সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে। অভিযোগ ওঠে, মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন ট্রাম্প।
যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জয় পায়নি, তবে খেলার নিরপেক্ষতা ও নৈতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ মার্কিন প্রশাসন এবং ফিফার ওপর থেকে মুছে যায়নি।
ট্রফি জয়ের আনন্দে রাজনীতির ছায়া
মাদ্রিদের রাস্তায় ট্রফি উঁচিয়ে সেলিব্রেশনের সময় তরেসের পরা সেই টুপিটি ট্রাম্পের ২০১৬ ও ২০২৪ সালের বিখ্যাত নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর হুবহু অনুকরণ। ট্রফি নেওয়ার মুহূর্ত থেকে শুরু করে টুর্নামেন্টে রাজনীতির এই বাড়াবাড়ি যে খেলোয়াড়দের মনে অসন্তোষ তৈরি করেছিল, তরেসের এমন প্রতিবাদী ভঙ্গি তারই প্রমাণ দেয়। ট্রাম্পের এমন আধিপত্যকামী আচরণের বিপরীতে তরেসের এই নিরব অথচ তীক্ষ্ণ জবাব আপাতত ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান আলোচনার অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে।