
বিতর্কিত গোল নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা: রেহাই পেল ইংল্যান্ড
নরওয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছিল একটি বিতর্কিত সমতাসূচক গোল। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ইংল্যান্ডের এই গোলের আগে বলটি স্টেডিয়ামের উপরে থাকা ক্যামেরার তার স্পর্শ করেছিল বলে জোরালো অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠলে অবশেষে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। শনিবার এক বিশেষ বিবৃতিতে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বল তারে লাগার দাবির পক্ষে কোনো প্রযুক্তিগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে, অর্থাৎ যোগ করা সময়ের (৪৫+২ মিনিট) খেলায় জুড বেলিংহামের দুর্দান্ত এক গোলে ১-১ সমতা আনে থ্রি লায়নসরা। তবে রেফারি গোলের বাঁশি বাজানোর পরপরই নরওয়ের খেলোয়াড়েরা ফরাসি রেফারি ক্লেমো তুরপিনের দিকে ছুটে যান এবং তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, গোল হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বলটি বাতাসে থাকা অবস্থায় ওপরের স্পাইডার ক্যামেরার তারে ধাক্কা খেয়েছিল, যা খালি চোখে ধরা না পড়লেও বলের স্বাভাবিক গতিপথ বদলে দিয়েছিল।
ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডের একটি দূরপাল্লার গোল-কিক থেকে এই আক্রমণের সূত্রপাত হয়েছিল। টেলিভিশন ফুটেজ ও রিপ্লেতে দেখা যায়, নিল্যান্ডের কিক করা বলটি যখন মাঝমাঠের আকাশে ভাসছিল, তখন হঠাৎ করেই সেটির গতিপথ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে সরাসরি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনের পায়ে চলে আসে। অ্যান্ডারসন বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দ্রুত আক্রমণ সাজান, যা শেষ পর্যন্ত বেলিংহামের পায়ে গিয়ে নরওয়ের জালে জড়ায়। ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন বল যদি স্টেডিয়ামের ছাদ বা ওপরের কোনো তার বা ক্যামেরায় আঘাত করে, তবে রেফারির খেলা থামিয়ে ‘ড্রপ বল’-এর মাধ্যমে পুনরায় খেলা শুরু করার কথা ছিল। নরওয়ে মূলত এই নিয়মটি না মানার কারণেই মাঠেই ক্ষোভ প্রকাশ করে।
তবে শনিবার ফিফা তাদের প্রযুক্তিগত তদন্তের পর জানায়, নরওয়ের এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কাতার বিশ্বকাপের সময় থেকেই ফিফা ফুটবলে ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ ব্যবহার করে আসছে। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যবহৃত অফিশিয়াল বলের ভেতরে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ সেন্সর বসানো ছিল, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার বলের গতি ও স্পর্শের ডেটা কন্ট্রোল রুমে পাঠায়।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, ৪৫+২ মিনিটে ইংল্যান্ডের সেই গোলের আগে কানেক্টেড বলের চিপ থেকে পাওয়া তথ্যে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ‘হার্টবিটে’ বা কম্পনে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক তারতম্য রেকর্ড করা হয়নি। অর্থাৎ বলটি নিখুঁতভাবে বাতাসে ভেসে অ্যান্ডারসনের কাছে এসেছিল এবং ওপরের কোনো তার বা ক্যামেরাকে স্পর্শ করেনি। ফলে রেফারির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ছিল এবং গোলটি বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।
টুর্নামেন্টের ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর ফিফার এই অগাধ বিশ্বাস নতুন কিছু নয়। এর আগের পর্বেও পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার একটি হাই-প্রোফাইল নকআউট ম্যাচে গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ঠিক একই প্রযুক্তির চিপ সেন্সর ব্যবহার করে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফিফার এই আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যার পর নরওয়ে শিবিরের অসন্তোষ কমুক আর না কমুক, ইংল্যান্ড যে বড়সড় এক বিতর্কের হাত থেকে বেঁচে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে, তা বলাই বাহুল্য।