বিপিএলের আর্থিক ও নৈতিক দ্বন্দ্ব বেড়েই চলেছে

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে আবারও অন্ধকারের ছায়া নেমেছে। অনিশ্চয়তা এবং আর্থিক-নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো আগামী টুর্নামেন্টকে সংকটময় করে তুলেছে। বিসিবিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পরও বিপিএল সফলভাবে আয়োজন করা সহজ হচ্ছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের পারিশ্রমিক দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা অতীতেও লিগকে সমস্যায় ফেলেছিল।

এ বছরের জন্য পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা পেয়েছে। মালিকানা পাওয়ার জন্য তাদের ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দিতে হতো। ৫ নভেম্বর ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘোষণা করা হয়, এবং দু’দিন পরে দলগুলোকে মালিকানা নথি হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে পারেনি। সময়সীমা ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়, যা আর্থিক প্রস্তুতির প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

এছাড়াও অন্তত দুইটি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জুয়া ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। অতীতের বিতর্কিত ঘটনা যেমন রাজশাহীর ফ্র্যাঞ্চাইজির সমস্যা, সতর্কতা বাড়িয়েছে। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, এমন চেষ্টা কোনোভাবেই প্রশ্রয় পাবে না।

২৩ নভেম্বরের খেলোয়াড় নিলাম উপলক্ষে মাত্র এক সপ্তাহ সময় হাতে আছে। যদি আর্থিক ও নৈতিক সমস্যার সমাধান না হয়, পুরো টুর্নামেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বিপন্ন হবে। বিসিবির দায়িত্ব হলো কঠোর নজরদারি চালিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং লিগকে জুয়া-মুক্ত রাখা। এটাই বিপিএলের টিকে থাকার মূল শর্ত।

Leave a Comment