বিপিএল নিলাম থেকে ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ পাওয়া খেলোয়াড়দের বাদ দিল বিসিবি

১২তম বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) খেলোয়াড় নিলামের একদিন আগে বিসিবি বেশ কয়েকজন স্থানীয় ক্রিকেটারকে নিলাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আগের বিপিএল আসরে ফিক্সিং–সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সন্দেহ রয়েছে।

ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের সুপারিশ অনুসারে বিসিবি এ সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বোর্ডকে পরামর্শ দেন, আগের মৌসুমে যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি ‘রেড-ফ্ল্যাগ’ দিয়েছে—অর্থাৎ সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে—এমন কোনও ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা যেন নিলামে না রাখা হয়।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রথম খসড়া তালিকায় থাকা সাতজন স্থানীয় ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ২৬ নভেম্বর ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে পাঠানো খসড়া তালিকায় তারা ছিলেন। বাদ পড়ায় এখন চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে ১৫৮ জন স্থানীয় ক্রিকেটারকে, যারা আজ ২৬৭ জন বিদেশি খেলোয়াড়ের সঙ্গে নিলামে উঠবেন।

বাদ পড়াদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দুই নাম—অনামুল হক বিজয় এবং মোসাদ্দেক হোসেন। দুজনই তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং খসড়া তালিকার ক্যাটাগরি ‘সি’-তে ছিলেন।

অন্যান্য বাদ পড়াদের মধ্যে রয়েছেন: আলাউদ্দিন বাবু (ক্যাটাগরি ডি), নিহাদুজ্জামান (ক্যাটাগরি ই), সুনজামুল ইসলাম (ক্যাটাগরি ই), শফিউল ইসলাম (ক্যাটাগরি এফ), এবং মিজানুর রহমান (ক্যাটাগরি এফ)।

সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের চেয়ারম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েকজন ব্যক্তি—যাদের মধ্যে কিছু খেলোয়াড়ও রয়েছেন—তাদের এ বছরের বিপিএলে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তবে বোর্ড স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বিপিএলের জন্য প্রযোজ্য; দেশীয় অন্য প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণে কোনও বাধা নেই।

হঠাৎ বাদ পড়ে বিস্মিত অনামুল হক বিজয় বলেন, তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন।
তিনি বলেন, “আমাকে কেন বাদ দিল? তাদের কাছে কী প্রমাণ আছে? আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। প্রমাণ দেখাতে না পারলে আমি আমার সুনাম ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাব।”

এখনও বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নামে ফিক্সিং–সংক্রান্ত অভিযোগ ঘোষণা করেনি। তাই ক্রিকেট অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এভাবে তাদের বাদ দেওয়া কতটা ন্যায্য?

তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সদস্য ইফতেখার রহমান মিঠু এ সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন।
তিনি বলেন, “গভর্নিং কাউন্সিল হিসেবে আমাদের পূর্ণ অধিকার আছে। ইনজুরিতে থাকা খেলোয়াড়দের যেমন তালিকায় রাখা যায় না, তেমনই রেড-ফ্ল্যাগ পাওয়া খেলোয়াড়রাও থাকবে না। এ বিষয়ে আপিলের সুযোগ তাদের আছে।”

অন্যদিকে সমালোচনার পর চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে কয়েকজন ঘরোয়া পারফরমারকে—মোহাম্মদ রুবেল, ইফতেখার হোসেন ইফতি, তাওফিক খান তুষার ও নুহায়েল সানদীদ। এছাড়া কয়েকজনের ক্যাটাগরি পরিবর্তনও হয়েছে।

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি বিসিবি আগের (১১তম) বিপিএলের অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের স্বাধীন কমিটি গঠন করেছিল। নয় মাস পর কমিটি ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় ২৮ অক্টোবর।

Leave a Comment