আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় ধরনের দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যামের হয়ে খেলা দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সেন্টার-ব্যাক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ায় লিওনেল স্কালোনির রক্ষণভাগের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের শারীরিক অবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে আর্জেন্টিনা শিবিরে।
গত রবিবার সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচে টটেনহ্যাম ১–০ গোলে পরাজিত হয়। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে রোমেরোর ইনজুরি। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক অ্যান্টোনিন কিনিস্কির সঙ্গে একটি আকাশি বলের দ্বৈরথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তিনি মাঠে পড়ে যান। এরপর চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও তিনি আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি।
তবে প্রাথমিকভাবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, রোমেরো নিজে হেঁটেই মাঠ ত্যাগ করেন এবং স্ট্রেচারের প্রয়োজন হয়নি। সাধারণত গুরুতর লিগামেন্ট বা হাড়ের বড় ধরনের চোটে খেলোয়াড়কে স্ট্রেচারে নেওয়া হয়, ফলে এই তথ্য কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে মাংসপেশি, মাথা বা অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মাঠ ছাড়ার সময় সতীর্থরা তাকে ঘিরে ধরে সান্ত্বনা দেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলে।
অন্যদিকে, একই সংঘর্ষে গোলরক্ষক কিনিস্কিও মাথায় আঘাত পান। তবে তিনি ম্যাচ ছাড়েননি এবং মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বাকি সময় খেলায় অংশ নেন। আধুনিক ফুটবলে কনকাশন প্রোটোকল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ধরনের আঘাত ভবিষ্যৎ ফিটনেস পরীক্ষার জন্য আলাদা নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
টটেনহ্যামের নতুন কোচ রবার্তো ডি জার্বি ম্যাচ শেষে রোমেরোর অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইনজুরির প্রকৃত মাত্রা এখনো নিশ্চিত নয় এবং আগামী কয়েকদিন খেলোয়াড়টিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। ক্লাবের মেডিকেল টিম বিস্তারিত স্ক্যান ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চূড়ান্ত রিপোর্ট দেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইনজুরি গুরুতর না হলে দ্রুতই রোমেরো মাঠে ফিরতে পারবেন এবং মৌসুমের শেষ অংশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
রোমেরোর অনুপস্থিতি আর্জেন্টিনার জন্য বিশেষভাবে চিন্তার কারণ, কারণ তিনি লিওনেল স্কালোনির রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তার শক্তিশালী ট্যাকল, আকাশি বলে দক্ষতা, অবস্থানগত সচেতনতা এবং নেতৃত্বগুণ আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ ইউনিটকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাকের উপস্থিতি দলীয় ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নিচে টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থার একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| লিগ অবস্থান | ১৮তম |
| পয়েন্ট ব্যবধান | ১৭তম স্থানের চেয়ে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে |
| বাকি ম্যাচ | ৬টি |
| সাম্প্রতিক ফল | সান্ডারল্যান্ডের কাছে ১–০ পরাজয় |
এই হারের পর টটেনহ্যাম প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের অবনমন অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। মৌসুমে মাত্র ছয়টি ম্যাচ বাকি থাকায় প্রতিটি ম্যাচ এখন তাদের জন্য ‘বাঁচা-মরার’ লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার ঠিক আগে রোমেরোর মতো মূল ডিফেন্ডারের ইনজুরি দলটির জন্য কৌশলগত ও মানসিক—দুই দিক থেকেই বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, রোমেরোর ইনজুরি যদি হালকা হয়, তবে তিনি দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলে আর্জেন্টিনাকে রক্ষণভাগে নতুন সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে শিরোপা ধরে রাখার পথে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
