বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর অল্প সময় বাকি। ক্রীড়াজগতের অন্যতম বড় এই আসর ঘিরে প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন চোটের কারণে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিটকে পড়ায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। টুর্নামেন্ট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই তারকাদের ইনজুরির সংখ্যা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
প্রথম ধাক্কা আসে রদ্রিগো-এর চোটে। গত মার্চের শুরুতে তাঁর ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (ACL) ও ল্যাটারাল মিনিস্কাস ছিঁড়ে যাওয়ায় মৌসুমের বাকি অংশের পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যান তিনি। এরপর তালিকায় যুক্ত হন হুয়ান ফয়েথ ও ভ্যালেন্তিন কার্বনি। সর্বশেষ হুগো একিতিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েন।
এই ধারাবাহিকতায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন সার্জ নাবরি। বায়ার্ন মিউনিখ জানিয়েছে, তাঁর ডান ঊরুর অ্যাডাক্টর পেশি ছিঁড়ে গেছে, যা দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন তৈরি করেছে। ফলে বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং পরে তিনি নিজেই না খেলতে পারার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জাতীয় দলে নিয়মিত মুখ হিসেবে বাছাইপর্বের সব ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকা নাবরির অনুপস্থিতি জার্মানির পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ব্রাজিলের তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাও-এর পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক চোটে ভোগার পর ফিরে এলেও ১৯ এপ্রিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে আবার ঊরুর চোটে পড়েন তিনি। ফলে তাঁর বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে দল ঘোষণা করবেন, যেখানে এস্তেভাওকে রাখা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আনচেলত্তির অধীনে এস্তেভাওয়ের পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। সাত ম্যাচে পাঁচ গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে তিনি দলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নিচের সারণিতে তাঁর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
| ম্যাচ সংখ্যা | গোল | অ্যাসিস্ট |
|---|---|---|
| ৭ | ৫ | ৫ |
অন্যদিকে, তাঁর অনুপস্থিতি নেইমার-এর বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্পেনের জন্যও একই ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল-কে ঘিরে। সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে গোল করার পরই বাঁ পায়ে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি এবং পরে মাঠ ছাড়েন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট লেগেছে। তবে চোটের প্রকৃতি ও সময়কাল নির্ভর করবে বিস্তারিত মেডিক্যাল পরীক্ষার ওপর।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের ইনজুরি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কৌশল ও দলগঠনে প্রভাব ফেলছে। আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া এই আসরের আগে পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, তা নির্ভর করছে এসব খেলোয়াড়ের পুনর্বাসন ও সুস্থতার অগ্রগতির ওপর।
