যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য যারা টিকিট কিনেছেন, তারা বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকারে অগ্রাধিকার পাবেন। ২০২৬ বিশ্বকাপটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে আয়োজিত হবে, তবে এর অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ ভিসা সুবিধা
গত সোমবার হোয়াইট হাউসে এক প্রেস কনফারেন্সে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ফিফার বিশেষ “অগ্রাধিকার প্রক্রিয়া” (PASS) এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিটধারীরা ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য অগ্রাধিকার পাবেন। এর মানে, যারা বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন, তারা সাধারণ ভিসা সাক্ষাৎকারের অপেক্ষার সময়ের তুলনায় দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন। তবে ট্রাম্প এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন যে, টিকিটধারীরা ভিসা পাবেন না স্বয়ংক্রিয়ভাবে। তাদের সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং একমাত্র পার্থক্য হলো, তারা প্রক্রিয়ায় একটু এগিয়ে থাকবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও জানান, আগামী বছরের জুন-জুলাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী এবং দর্শকরা ভিসার জন্য আবেদন করলে, তারা ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে পারেন। তবে রুবিও বলেন, “বিশ্বকাপের টিকিট থাকা মানে এই নয় যে, আপনার ভিসা নিশ্চিত হবে। আমরা নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করব, কিন্তু তারা অপেক্ষার সময়ের মধ্যে কিছুটা অগ্রাধিকার পাবে।”
বিশ্বকাপের জন্য প্রচুর দর্শক যুক্তরাষ্ট্রে আসবেন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই প্রসঙ্গে বলেন, “২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক কোটি দর্শক আসবেন। ফিফার অগ্রাধিকার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে যে, যেসব টিকিটধারী ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের জন্য এই প্রক্রিয়া তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ আরও সহজ করবে।”
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোতে ভিসা অপেক্ষার সময়
বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে—১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি হবে যুক্তরাষ্ট্রে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য এখন অনেক দেশ থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। যেমন, কলম্বিয়ায় প্রায় ১১ মাস, মেক্সিকো সিটিতে ৯ মাস এবং কানাডার টরন্টো শহরে ১৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এর ফলে, বিশ্বকাপ দেখতে আসা অনেক দর্শক ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সীমা পার করতে পারবেন না।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন এর প্রশংসা করেছে। তাদের প্রধান নির্বাহী জিওফ ফ্রিম্যান জানান, “এই নতুন নিয়ম ফিফার টিকিটধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করবে, কিন্তু এটি স্পষ্ট নয়, এমন কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কিনা, যাদের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।” তিনি এক্ষেত্রে উল্লেখ করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ইরানও রয়েছে, যাদের ওপর গত জুনে ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপের মাধ্যমে নতুন ব্যবসা এবং পর্যটন সম্ভাবনা
২০২৬ বিশ্বকাপে প্রায় এক কোটি দর্শকের আগমন যুক্তরাষ্ট্রে বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে, যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দর্শকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া চালু হবে, যা দেশটির পর্যটন শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
এই নতুন উদ্যোগ বিশ্বকাপের দর্শকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ২০২৬ সালে আয়োজিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দর্শকরা এই সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যালারিতে তাদের প্রিয় দলকে দেখতে পারবেন এবং বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
