বিশ্বকাপে ইরানের বদলে ইতালি নিয়ে প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিতর্ক

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফিফাকে পরামর্শ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। এই প্রস্তাব ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাওলো জাম্পোলি বলেন, চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পূর্ণ যোগ্যতা রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত এই আসরে ইতালির জাতীয় দল ‘আজুরি’দের অংশগ্রহণ দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফুটবলের ঐতিহ্য, জনপ্রিয়তা এবং প্রতিযোগিতামূলক শক্তির দিক থেকে ইতালির উপস্থিতি টুর্নামেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

জাম্পোলি ট্রাম্প প্রশাসনের গ্লোবাল পার্টনারশিপ-বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো ফুটবল প্রশাসনিক পদে নেই। তিনি একজন ইতালীয়-আমেরিকান নাগরিক।

এই প্রস্তাবের পেছনে একটি ক্রীড়াগত প্রেক্ষাপটও রয়েছে। গত মার্চে ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটেই বিকল্পভাবে কোনো দলকে অন্তর্ভুক্ত করার ধারণা সামনে আসে, যা এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

অন্যদিকে ইরান ইস্যুতে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের জন্য ফিফার কাছে একাধিকবার আবেদন জানায়। একই সঙ্গে ভেন্যু পরিবর্তন না করা হলে বিশ্বকাপ বর্জনের হুমকিও দেয় দেশটি। এই অবস্থান বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা আরও বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই জাম্পোলির প্রস্তাব নতুন মাত্রা যোগ করে, যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের মন্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

ইতালির অভ্যন্তরে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজনৈতিক বা প্রস্তাবভিত্তিক নয়; বরং তা নির্ধারিত হয় মাঠের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। তিনি এই ধারণাকে অসম্ভব ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেন।

ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকারলো জিওরগেত্তি আরও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রস্তাবটিকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের একমাত্র ভিত্তি হলো যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত মাসে তুরস্কে ইরান জাতীয় দলের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় জানান, বিশ্বকাপের সব ম্যাচ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তবে তিনি ইরান বা ইতালিকে ঘিরে উত্থাপিত এই প্রস্তাব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কিংবা ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সব মিলিয়ে ইরান ও ইতালিকে ঘিরে উত্থাপিত এই প্রস্তাব বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া, রাজনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিল সংযোগকে আরও স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মানদণ্ড ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূচনা করেছে এই ঘটনা।

Leave a Comment