
বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে রেফারির ভিডিও ফাঁস, মিলল নতুন তথ্য
মেগা ফাইনাল শেষ হওয়ার দীর্ঘ ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও ফুটবলপ্রেমীদের মন থেকে এখনো ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তাপ ও উত্তেজনা একটুও কমেনি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে শক্তিশালী স্পেন ও বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার ঐতিহাসিক সেই মহারণের নতুন কিছু দৃশ্য সম্প্রতি জনসাধারণের সামনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই নতুন দৃশ্যগুলো ফাইনাল পরিচালনা করা স্লোভেনীয় অভিজ্ঞ রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে নিয়ে নতুন করে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ফিফার নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ‘রেফক্যাম’ বা রেফারির জার্সিতে যুক্ত ক্যামেরার দৃষ্টিকোণ থেকে ধারণ করা ফুটেজটি প্রকাশ্যে আসার পরই ফুটবল বিশ্বে নানা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
সামনে আসা এই ভিডিও ফুটেজের একটি বিশেষ দৃশ্যে দেখা যায়, খেলার মাঠে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি এগিয়ে এসে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের মুখোমুখি হন। প্রকাশিত অডিও ট্রান্সক্রিপ্ট ও ফুটেজ অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে রেফারিকে বেশ উদ্বেগের সুরে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে শান্ত করার অনুরোধ জানাতে শোনা যায়। রেফারি ভিনচিচ সরাসরি মেসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘মেসি, পারেদেসকে সামলাও। পারেদেসকে সামলাও। ওর ইতোমধ্যে হলুদ কার্ড রয়েছে, আমি মাঠে তাকে লাল কার্ড দেখাতে চাই না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কয়েক সেকেন্ডের সংক্ষিপ্ত দৃশ্যটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফুটবল সমর্থকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়, যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয় স্পেনের সমর্থকদের মধ্যে। ইন্টারনেটে অনেকেই রেফারির এই কথোপকথনকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন। তাদের দাবি, রেফারি হয়তো লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করা এড়ানোর জন্য বিশেষ চেষ্টা করছিলেন। তবে এই ভিডিওর সম্পূর্ণ দৃশ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে কেবল দুই পক্ষের একটি সতর্কতামূলক কথোপকথন ছাড়া অন্য কোনো অসদুপায় বা পক্ষপাতিত্বের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। মূলত রেফারি মাঠের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থেই অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে অনুরোধ করেছিলেন, যাতে তিনি আগে থেকেই হলুদ কার্ড পাওয়া নিজ দলের সতীর্থকে শান্ত রাখেন।
অবশ্য রেফারির এই বিশেষ অনুরোধ বা সতর্কতা শেষ পর্যন্ত দলের জন্য পুরোপুরি রক্ষা কবচ হয়ে উঠতে পারেনি। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ড্র থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। ম্যাচের ১০৬ মিনিটের মাথায় স্পেনের তারকা ফুটবলার ফেররান তরেস দুর্দান্ত একটি গোল করে দলকে ১-৫ নয় বরং ১-০ গোলের অমূল্য ব্যবধানে এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলেই আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে গৌরবময় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের ট্রফি নিজেদের ঘরে তোলে স্পেন।
খেলা শেষের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের পরিস্থিতি আরও বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্বে ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। যার ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাকে মাঠ থেকে অবসান ঘটাতে হয় এবং পরবর্তীতে ম্যাচ-পরবর্তী এই অপ্রীতিকর ঘটনাবলীর জন্য ফিফা কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করে।
রেফক্যামের এই রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যটি আবারও স্লোভেনীয় রেফারি স্লাভকো ভিনচিচকে ফুটবল দুনিয়ার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। তবে বর্তমান রেকর্ডিংটি কেবল মাঠে রেফারি ও আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির মধ্যকার সেই সতর্কবার্তা ও সংক্ষিপ্ত কথোপকথনটুকুই নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন তাদের ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছিল। তবুও আগে কখনো প্রকাশ্যে না আসা এই গোপন ফুটেজ টুর্নামেন্টের অন্যতম রোমাঞ্চকর এই ফাইনাল ম্যাচের রেফারিং মান ও মাঠের ভেতরের নানা গোপন সমীকরণ নিয়ে নতুন এক তাত্ত্বিক আলোচনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।