
বিশ্বকাপ লভ্যাংশ বিতর্ক: ফিফাকে উয়েফার কড়া লিগ্যাল নোটিশ
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি গোপন ও বিতর্কিত আর্থিক পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান সংস্থা উয়েফা। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনা ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় রকমের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মূল বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল ইনফান্তিনোর একটি উচ্চাভিলাষী ও বিতর্কিত পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। ভবিষ্যতের ফুটবল বিশ্বকাপের লভ্যাংশের একটি বিশাল অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে এক লাফে চার দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এই বিশাল অঙ্কের তহবিল সংগ্রহের বিনিময়ে ফিফার অন্তর্ভুক্ত সদস্য দেশগুলোকে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
তবে এই গোপন পরিকল্পনা বেশি দিন চাপা থাকেনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে তীব্র ঝড় ওঠে। উয়েফা এবং ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলো এই একপেশে উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এই বিতর্কিত পরিকল্পনা অবিলম্বে বাতিল না করা হলে ফিফার আয়োজিত সব ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট বয়কট করার হুমকি দেয় ইউরোপীয়রা।
চারদিক থেকে তীব্র চাপ ও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি তার সেই বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন। কিন্তু এখানেই বিষয়টির পরিসমাপ্তি ঘটছে না। উয়েফা বসে না থেকে ফিফাকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি চিঠি বা প্রিজারভেশন লেটার পাঠিয়েছে।
এই আইনি চিঠির মূল তাৎপর্য হলো—ফিফাকে এই পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত সমস্ত অভ্যন্তরীণ তথ্য, দাপ্তরিক নথি, ডিজিটাল মেসেজ এবং ইমেইল অত্যন্ত সাবধানে সংরক্ষণ করতে হবে। উয়েফা বর্তমানে এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফিফা এবং স্বয়ং জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ প্রায় ১৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের আইনি মামলা কিংবা সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে।
এই আর্থিক কেলেঙ্কারি ও আইনি জটিলতার জেরে ইনফান্তিনোর একক আধিপত্য ও ক্ষমতা এখন মারাত্মকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আগামী মার্চ মাসে ফিফার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এমন একটি সময়ে উয়েফা বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে এবং তাকে হটাতে একজন যোগ্য বিকল্প প্রার্থী খোঁজা শুরু করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা ফিফার রাজনীতিতে দীর্ঘ দশ বছরের একচ্ছত্র রাজত্বকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।