সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ব্যাটিং, কিন্তু সুপার ওভারে অনুপস্থিতি

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে উত্তেজনা ছিল পরম। ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল ১৪ বছর বয়সী সূর্যবংশী বৈভবের সুপার ওভারে অনুপস্থিতি। মাত্র ১৫ বলে ৩৮ রান করে চারটি ছক্কা ও দুইটি চারের ঝড় তুলেছিলেন সূর্যবংশী। এই পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকরা আশা করেছিলেন, তাঁকে সুপার ওভারে পাঠানো হবে। কিন্তু তিনি ছিলেন ব্যাটিং লাইনে অন্তর্ভুক্ত নয়।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৯৪ রান তোলে। জবাবে ভারত ‘এ’ দলের শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৪ রান। হার্শ দুবের শট লং-অন দিয়ে যায়, কিন্তু দুই রানের বেশি সম্ভব হয়নি। এরপর আকবর আলী হঠাৎ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন, যখন তিনি হার্শকে স্টাম্পের দিকে বল ছোঁড়ার নির্দেশ দেন, যা স্টাম্পে লাগে না। সুযোগে দুই ব্যাটসম্যান তৃতীয় রান নেন। এই ভুলের ফলে ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ায়।

সুপার ওভারে ভারত ‘এ’ দলের দুই ব্যাটসম্যানই দ্রুত আউট হন রিপন মণ্ডলের কাছে। প্রথম বলেই জিতেশ শর্মা বোল্ড হন, দ্বিতীয় বলেই আশুতোষ শর্মা ক্যাচ দেন। ভারতের স্কোর দাঁড়ায় শূন্য। বাংলাদেশ ‘এ’ দল সহজে জিতে ফাইনালে পৌঁছে।

ম্যাচ শেষে জিতেশ শর্মা বলেন, “পাওয়ারপ্লেতে সূর্যবংশী ও প্রিয়াংশ দারুণ। কিন্তু ডেথ ওভারের জন্য আমাদের তিনজন—আশু, রমন এবং আমি—সর্বোত্তম। এটি দলীয় সিদ্ধান্ত।” তবে এই ব্যাখ্যা অনেক ভারতীয় সমর্থকের কাছে অপ্রস্তুত এবং অভিযোগ তুলেছেন, সুপার ওভারে সবচেয়ে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে না পাঠানো বড় কৌশলগত ভুল।

সূর্যবংশী টুর্নামেন্টে মোট ২৩৯ রান করেছেন, ৪ ইনিংসে ১ সেঞ্চুরি এবং সর্বাধিক ২২ ছক্কা। মাত্র ১৪ বছর বয়সেও তার ব্যাটিংয়ে বিস্ফোরণশক্তি চোখে পড়ার মতো। জিতেশ শর্মাও হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে বলেন, “এই ছেলেরা একদিন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারবে।”

আগামী ফাইনালে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের মুখোমুখি পাকিস্তান ‘এ’ দল।

Leave a Comment