এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় ম্যারাথন—ব্যাংকক ম্যারাথন সফলভাবে সম্পন্ন করে বাংলাদেশের পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়িয়েছেন নাহিদ। দীর্ঘদিনের নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রস্তুতি এবং মানসিক দৃঢ়তার ফল—এই অর্জন শুধু নাহিদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং দেশের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত।
রোববার, ১৬ নভেম্বর, থাইল্যান্ডের ব্যস্ত রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় এই আন্তর্জাতিক ম্যারাথন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পেশাদার রানারদের সঙ্গে একই ট্র্যাকে দৌড়ে নিজের সামর্থ্য ও মনোবল প্রমাণ করেন নাহিদ। ভোরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে শুরু হওয়া রেসে তিনি পুরো সময় দারুণ স্থিরতা বজায় রাখেন। সঠিক গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত দৌড়—সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ফিনিশ লাইন অতিক্রম করতে সক্ষম হন।
বাংলাদেশে ফিরে নাহিদ জানান,
“আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৌড়ানো আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও বড় আনন্দ ছিল বাংলাদেশের পতাকা বহন করা। প্রতিটি কিলোমিটারে দেশের কথা মাথায় ছিল।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যে এখন ফিটনেস ও দৌড়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন, এটি দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
ব্যাংকক ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা নাহিদকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। তিনি জানান, সামনে আরও বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়,
“এই অভিজ্ঞতা আমাকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক রেসে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে আমার।”
তাঁকে স্পন্সর করার জন্য নাহিদ ধন্যবাদ জানান বইসদাই ও সুলতানীমার্টকে। তাঁদের সহায়তা ছাড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে দৌড়ানো আরও কঠিন হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন—দৌড় শুধু শরীরচর্চা নয়, বরং নিজেকে বদলে দেওয়ার শক্তিশালী মাধ্যম।
ব্যাংকক ম্যারাথনে নাহিদের এই সাফল্য প্রমাণ করেছে—পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় থাকলে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারে।
