
ব্যালন ডি’অর দৌড়ে বাজির অঙ্কে বড় পরিবর্তন, এগিয়ে হ্যারি কেইন
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে এসে দারুণ এক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। পুরস্কার ঘোষণার ঠিক আগমুহূর্তে বাজির বাজারের হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে, যার ফলে দৌড়ের শুরু থেকে এগিয়ে থাকা তারকাদের অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ধারা বজায় থাকলে বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন হ্যারি কেইনের হাতেই উঠতে পারে এবারের কাঙ্ক্ষিত এই সোনালী ট্রফি।
ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের নজর এখন পুরস্কারটির চূড়ান্ত ফলের দিকে। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বুকমেকার বা বাজির বাজারগুলোর সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, লড়াইটি মূলত ঘুরপাক খাচ্ছে তিনজন তারকার চারপাশেই। এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছে বার্সেলোনার বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, বায়ার্ন মিউনিখের অভিজ্ঞ ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন এবং ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে প্রতিযোগিতার শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে বাজির দরে আমূল পরিবর্তন এসে কেইনকে একদম শীর্ষ স্থানে বসিয়ে দিয়েছে।
তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত এক সময় কাটিয়েছেন এই উইঙ্গার। লা লিগায় ১৬টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ১১টি গোল করিয়েছিলেন তিনি। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই বার্সেলোনা সফলভাবে নিজেদের লিগ শিরোপা ধরে রেখেছিল। এর বাইরে স্প্যানিশ সুপার কাপের সোনালী ট্রফি জয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বড় সাফল্য পান এই তরুণ। জাতীয় দল স্পেনের জার্সিতে মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও নিয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই এসব অর্জনের সুবাদে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তাকে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
তবে বাজির বাজারের সাম্প্রতিক চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, হঠাৎ করেই লামিন ইয়ামালের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে বাজির দর ৩.২৫ থেকে বেড়ে ৬.০০ পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। সাধারণত বাজির বাজারে কোনো প্রতিযোগীর দর বেড়ে যাওয়ার সরাসরি অর্থ হলো, তার জয়ের ব্যাপারে বাজি ধরার মানুষের আস্থা বা সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমেছে। অবশ্য বাজির বাজারের এই ওঠানামাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে মেনে নেওয়ার উপায় নেই, কারণ এটি কেবল একটি পূর্বভাস মাত্র।
অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে অবিশ্বাস্য এক মৌসুম পার করা হ্যারি কেইন এখন বাজি ধরার বাজারে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তিশালী নাম। তার পক্ষে বাজির দর নেমে এসেছে ১.৩৫-এ, যা তাকে এই মুহূর্তে বাকি সবার চেয়ে বহু যোজন এগিয়ে রেখেছে। জার্মান ক্লাবটির হয়ে মাঠ মাতাতি এই ইংলিশ স্ট্রাইকার গত পুরো মৌসুমে নিজের গোল করার ক্ষিপ্রতা দারুণভাবে বজায় রেখেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ে মোট ৬৫ বার প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছেন তিনি। তার এই দানবীয় গোলের পরিসংখ্যান তাকে ব্যালন ডি’অরের সিংহাসনের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
এই পরিবর্তনের পেছনে বড় একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাবেক তারকা ফুটবলার ও কোচদের নিয়ে গঠিত বিশেষ বিচারক প্যানেলের ভোট। সম্প্রতি শেষ হওয়া ‘১০০ মার্কা’ নামের একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের লড়াইয়ে বিচারকদের রায়ে সবার সেরা নির্বাচিত হয়েছেন বায়ার্ন তারকা। সেই ভোটাভুটির ব্যবধানও বেশ রোমাঞ্চকর। প্যানেলের দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, হ্যারি কেইন সর্বমোট ৩,৯৬২ পয়েন্ট অর্জন করে তালিকার চূড়ায় অবস্থান করছিলেন। তার ঠিক পেছনেই তীব্র লড়াই গড়ে তুলেছিলেন বার্সেলোনা তারকা লামিন ইয়ামাল, যিনি মাত্র ২৫ পয়েন্টের ব্যবধানে ৩,৯৩৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এছাড়া এই তালিকায় ৩,৪৪০ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
অবশ্য বাজির বাজারের হিসাব কিংবা বিভিন্ন প্যানেলের ভোট কখনোই একা ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করে দিতে পারে না। বিশ্বজুড়ে ভোট দিতে যাওয়া ফুটবল সাংবাদিকদের চূড়ান্ত ব্যালট এবং তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে কে উঠবেন পুরস্কারের রাজমঞ্চে।
যদি শেষ পর্যন্ত তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল এই পুরস্কার জিতে নিতে সক্ষম হন, তবে তা ফুটবলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই কীর্তি গড়লে তিনি হবেন ব্যালন ডি’অরের দীর্ঘ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিজয়ী। বর্তমানে এই রেকর্ডটি দখল করে আছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো। সালটি ছিল ১৯৯৭, যখন মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমবার এই জাদুকরি ট্রফি নিজের করে নিয়েছিলেন সেই সময়ের ফেনোমেননখ্যাত ব্রাজিলিয়ান তারকা। এখন দেখার বিষয়, বাজির বাজারের হিসাবকে সত্যি করে হ্যারি কেইন ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, নাকি ইতিহাসের পাতায় নতুন নাম লিখিয়ে আলোড়ন তোলেন কিশোর তারকা ইয়ামাল।