
ব্যালন ডি’অর নিয়ে মন্তব্যে ইয়ামালকে আবেলারদোর সতর্কবার্তা
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে দেওয়া হবে এই বর্ষসেরা ট্রফি। আসরটি এখনো মাসখানেক দূরে থাকলেও সম্ভাব্য জয়ী কে হচ্ছেন— তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মাঝে চলছে নানা সমীকরণ। আর ঠিক এই সময়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পের পর এবার নিজেকেও এই পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করেছেন ১৭ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ উইঙ্গার।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুভিস্টার প্লাসের একটি অনুষ্ঠানে আলাপকালে ইয়ামাল বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই নিজের মত জানান। তার ভাষায়, এবারের ব্যালন ডি’অরের জন্য সেরাদের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং তিনি নিজে। মাঠের পারফরম্যান্স ও মৌসুমের সামগ্রিক সাফল্য বিবেচনায় পুরস্কারটি জেতার শক্ত দাবিদার তিনি— এমনটাই বিশ্বাস তার।
তরুণ এই তারকার এমন প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশকে অবশ্য সহজভাবে নেননি বার্সেলোনারই সাবেক ডিফেন্ডার আবেলারদো ফার্নান্দেজ। নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ধারণা থাকা বা আত্মবিশ্বাসী হওয়া দোষের কিছু নয় বলে মনে করেন আবেলারদো, তবে সেটি জনসমক্ষে এভাবে বলে বেড়ানোকে অনুচিত বলেই মনে করেন তিনি। তার মতে, নিজের মনের ভেতরে আত্মবিশ্বাস রাখা এক জিনিস আর তা সংবাদমাধ্যমের সামনে ফলাও করে বলা আরেক জিনিস। আবেলারদো কিছুটা কড়া সুরেই বলেন, বিষয়টি তার পছন্দ হয়নি এবং এতে জনমানসে খেলোয়াড়টির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সাবেক এই বার্সা তারকা ইয়ামালকে আরও পরিপক্ব আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন। তার পরামর্শ ছিল এমন— প্রকাশ্যে নিজেকে সেরা দাবি না করে বলা যেত যে তিনি সম্ভাব্য সেরা কয়েকজনের একজন। ফুটবলের দীর্ঘ লড়াইয়ে চূড়ান্ত মুহূর্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় থাকে না বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
নিজের যুক্তির সপক্ষে উদাহরণ টানতে গিয়ে আবেলারদো তুলে আনেন বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির কথা। স্পেনের জার্সিতে ৫৪টি ম্যাচ খেলা এই সাবেক ডিফেন্ডার জানান, ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও মেসিকে কখনো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে এমন বড়াই করতে দেখা যায়নি। আবেলারদোর সরল স্বীকারোক্তি, “লামিনের এই কথাগুলো আমার একটুও ভালো লাগেনি। মেসিকে তো কখনো এমন কথা বলতে শুনিনি, অথচ সে ছিল আক্ষরিক অর্থেই ফুটবলের ঈশ্বর।”
উল্লেখ্য, গত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের শিরোপা জয়ে দুর্দান্ত ভূমিকা রাখার পর থেকেই বিশ্ব ফুটবলের নক্ষত্রপতনশীল আকাশে দ্রুত উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন ইয়ামাল। বার্সেলোনার হয়ে নিয়মিত আলো ছড়ানো এই তরুণের আত্মবিশ্বাসকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও আবেলারদোর মতো অভিজ্ঞরা একে অতি-উচ্ছ্বাস হিসেবেই দেখছেন। শেষ পর্যন্ত ২৬ অক্টোবরের মঞ্চে কার হাতে ওঠে কাঙ্ক্ষিত গোল্ডেন বল, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।