ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনায় আগামী ৫ অথবা ৬ অক্টোবর ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। তবে ম্যাচটি চূড়ান্ত করতে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে বেশ কিছু আর্থিক ও অবকাঠামোগত শর্ত।
ব্রাজিলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রোববার ঢাকায় এসে জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা পরিদর্শন করেছে। মাঠ, ঘাস, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি, অনুশীলন সুবিধা, জিমনেশিয়ামসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেছেন তারা। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রাজিলের জাতীয় পুরুষ দলের সাধারণ তত্ত্বাবধায়ক সার্জিও দিমাস দে অলিভেইরা।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছেন, ব্রাজিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য ম্যাচ আয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার মাঠ এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ব্রাজিলের কাছে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও ড্রেসিংরুম, কারিগরি কর্মীদের জায়গা এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ম্যাচ আয়োজনের ব্যয়। ব্রাজিল ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এরপর বাংলাদেশে এলে কলকাতা থেকে ঢাকায় পুরো দলের যাতায়াতের বিমান খরচ বাংলাদেশকে বহন করতে হবে—এমন শর্তের কথা জানা গেছে।
শুধু ঢাকা আসার খরচ নয়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে ব্রাজিল দলের থাকা, খাওয়া ও স্থানীয় যাতায়াতের ব্যয়ও বাফুফেকেই বহন করতে হতে পারে। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও দলের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের খরচও এর আওতায় পড়বে।
ঢাকা থেকে ব্রাজিল ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ওপর আরেকটি আর্থিক দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকা থেকে দুবাই পর্যন্ত ব্রাজিল দলের যাত্রার খরচের একটি অংশ বাংলাদেশকে বহন করতে হবে।
তবে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—ব্রাজিলকে ম্যাচ ফি বা বাণিজ্যিক কোনো অর্থ দিতে হবে কি না। এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ম্যাচটি আয়োজন করতে বাফুফের মোট কত অর্থ ব্যয় হবে, সেটিও এখনো নির্ধারিত নয়।
ব্রাজিলের এই সফর নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, তারা শুধু বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের সম্ভাবনাই দেখছে না; ঢাকাকে নিরপেক্ষ ভেন্যু কিংবা অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবেও বিবেচনা করছে। ব্রাজিল-ভারত ম্যাচের আগে ঢাকাকে অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
ব্রাজিলের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর তাই সম্ভাবনাটিকে আরও জোরালো করেছে। তবে প্রস্তাবিত ম্যাচের তারিখ, আর্থিক শর্ত, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচটি চূড়ান্ত হয়েছে বলা যাচ্ছে না।
