
ভোটে এগিয়ে রোনালদো, তবু মিলবে না ব্যালন ডি’অর ট্রফি
ব্যালন ডি’অরের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সমর্থক ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে এই ভোটে জয়ী হলেও কোনো ট্রফি কিংবা আনুষ্ঠানিক সম্মাননা পাবেন না তিনি। বিষয়টি নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় এবার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ফ্রান্স ফুটবল।
সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ বা সংক্ষেপে ‘বোট’ নামের এই ভোটের সঙ্গে ঐতিহাসিক সুপার ব্যালন ডি’অরের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত সমর্থকদের অংশগ্রহণে ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় ব্যক্তিগত মৌসুম নির্বাচনের একটি বিশেষ আয়োজন।
আগামী সোমবার, ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবারের মূল ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। এর কয়েক দিন আগে বিশেষ ভোট চালু হওয়ায় অনেক সমর্থক ধারণা করেছিলেন, দীর্ঘদিন পর হয়তো ফিরতে যাচ্ছে সুপার ব্যালন ডি’অর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে সেই জল্পনায় ইতি টেনেছে ফ্রান্স ফুটবল। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভোটের মাধ্যমে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক পুরস্কার চালু করা হচ্ছে না।
বিশেষ এই আয়োজনে জায়গা পেয়েছেন ব্যালন ডি’অর একাধিকবার জয়ী ১০ কিংবদন্তি ফুটবলার। তালিকায় রয়েছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাউয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
এখানে কোনো ফুটবলারের পুরো ক্যারিয়ার কিংবা মোট ব্যালন ডি’অর জয়ের সংখ্যা বিবেচনা করা হচ্ছে না। বরং তাঁদের ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট মৌসুমের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মধ্যে তুলনা করা হচ্ছে। সমর্থকেরা নিজেদের পছন্দের মৌসুমকে ভোট দিয়ে এগিয়ে রাখতে পারছেন।
তবে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব। প্রতিটি ভোটের জন্য একজন সমর্থককে খরচ করতে হচ্ছে এক ইউরো। একই ব্যক্তি কতবার ভোট দিতে পারবেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা রাখা হয়নি। ফলে একজন সমর্থক চাইলে একাধিকবার অর্থের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ফুটবলারের মৌসুমকে ভোট দিতে পারবেন।
এই ব্যবস্থায় ভোটের ফলাফলকে সমর্থকদের সামগ্রিক পছন্দের নির্ভুল প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ সীমিত। কারণ একজন ব্যক্তির একাধিক ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকায় বেশি ভোট পাওয়া মানেই বেশি সংখ্যক স্বতন্ত্র সমর্থকের সমর্থন পাওয়া নয়।
ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটি সমর্থকদের আবেগ ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।
সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘বোট’ সম্পূর্ণভাবে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ভোট। এটি কোনো বাস্তব ট্রফি নয় এবং ব্যালন ডি’অরের মূল অনুষ্ঠানে দেওয়া আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের অংশও নয়। সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে আগামী ২৮ অক্টোবর।
এই ব্যাখ্যার পাশাপাশি ঐতিহাসিক সুপার ব্যালন ডি’অরের বিষয়টিও পরিষ্কার করেছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
ফুটবল ইতিহাসে সুপার ব্যালন ডি’অর ছিল একটি ব্যতিক্রমী সম্মাননা। ১৯৮৯ সালের ডিসেম্বরে মাত্র একবার এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। আগের তিন দশকে একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারদের মধ্য থেকে সেরাকে নির্বাচিত করাই ছিল সেই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
সেবার সম্মানজনক পুরস্কারটি জিতেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড আলফ্রেদো দি স্তেফানো। তিনি ইয়োহান ক্রুইফ ও মিশেল প্লাতিনির মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।
এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুপার ব্যালন ডি’অর আর কাউকে দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে আবার এই পুরস্কার চালুর কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কিংবা তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে চলমান বিশেষ ভোটে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রকাশিত ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সেই মৌসুমের পক্ষে পড়েছে ৭৫ শতাংশ ভোট।
২০০৮ সালে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত সময় কাটিয়েছিলেন রোনালদো। ওই মৌসুমে তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স ক্লাবটির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই বছর ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অরও জেতেন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ২০১২ ও ২০১৩ সালের মৌসুম রয়েছে রোনালদোর পেছনে। প্রকাশিত হিসাবে দুটি মৌসুমই পেয়েছে ৯ শতাংশ করে ভোট।
বিশেষ করে ২০১২ সালটি মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সময়। ওই বছর ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৯১ গোল করে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বাধিক গোলের অসাধারণ রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি।
ফলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দুই তারকার স্মরণীয় মৌসুম ঘিরে সমর্থকদের আগ্রহ তৈরি হলেও এই ভোটের ফলাফলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের কোনো সম্পর্ক থাকছে না।
ফ্রান্স ফুটবলের ব্যাখ্যায় পরিষ্কার, বিশেষ ভোটে শেষ পর্যন্ত রোনালদো এগিয়ে থাকলেও তাঁর হাতে নতুন কোনো ব্যালন ডি’অর কিংবা সুপার ব্যালন ডি’অর ট্রফি উঠবে না।
আগামী ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে কেবল জানা যাবে, অংশগ্রহণকারী সমর্থকদের ভোটে ফুটবল ইতিহাসের কোন ব্যক্তিগত মৌসুমটি সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে।