বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আবারও অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রথম ইনিংসে শক্তিশালী ৪৭৬ রানের সংগ্রহের পর, বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেন মুমিনুল হকের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। এই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসভিত্তিক—তাদের লক্ষ্য ছিল আয়ারল্যান্ডকে এমন এক বিশাল স্কোর তাড়া করানো, যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর মুশফিকুর রহিম নতুন রেকর্ড গড়ে ইতিহাসে নাম লেখালেন। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা মুশফিক দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি ও ফিফটি করার বিরল কীর্তি দেখান। এই কৃতিত্বে তিনি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে সমান অবস্থানে চলে এলেন, যিনি তাঁর ১০০তম টেস্টে যুগল সেঞ্চুরি করেছিলেন।
মুমিনুল হকও ৮৭ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন, যা তার ধারাবাহিক ফর্মের প্রমাণ। তিনি টানা তিন ইনিংসে ফিফটি হাঁকিয়েছেন, এবং বিশেষভাবে তার খেলার ধরন দেখায় যে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন কেমন আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ২৯৭ রান সংগ্রহ করে এবং আয়ারল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় বিশাল ৫০৯ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ দিনের শেষে স্বাগতিকরা সংগ্রহ করে ৩ উইকেটে ১৪১ রান। যদিও কিছু আঘাত বা ছোট ভুল স্বাভাবিক হতে পারে, আয়ারল্যান্ডের জন্য ম্যাচ বাঁচানো এখন চরম কঠিন হয়ে গেছে।
বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম দিন থেকেই সহায়ক উইকেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। মুশফিক-মুমিনুলদের ব্যাটিং, সাদমানের গুরুত্বপূর্ণ ৭৮ রানের ইনিংস এবং প্রথম ইনিংসের বোলারদের চমৎকার পারফরম্যান্স মিলিয়ে শেষ দিনে বাংলাদেশের জয় সম্ভাবনা প্রবল।
