মিরপুরের টেস্ট মাঠে মঙ্গলবারের সকাল যেন রূপকথার মতো এক দৃশ্যের সমাবেশ হয়ে উঠল। দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখে নিলেন এমন একটি মুহূর্ত যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় থাকবে। কারণ, টাইগারদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম তুলে নিলেন নিজের ক্যারিয়ারের শততম টেস্টে শতরান। এই অর্জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে খুব কম খেলোয়াড়ই পূরণ করতে পেরেছেন।
মুশফিকের ইনিংস ছিল অভিজ্ঞতার উদাহরণ। তিনি প্রথম দিকে ধীর গতিতে খেললেও সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকাতে ছাড়েননি। স্পিনারদের বিপক্ষে ফুটওয়ার্ক এবং পেসারদের নার্ভ টেস্ট করার আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। বিশেষ করে নবীন ক্রিকেটারদের জন্য এটি যেন নিখুঁত পাঠ্যপুস্তক। তবে শতকের ঠিক পরের ওভারে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরলেও দলের সংগ্রহের ভিত্তি ইতিমধ্যেই মজবুত হয়ে উঠেছে।
মুশফিকের বিদায়ের পরই ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন লিটন দাস। তার ব্যাটিংয়ের সৌন্দর্য এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখিয়ে দিলেন কেন তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যাটারদের একজন। লাঞ্চের আগ মুহূর্তে লিটন নিজের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন, দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। তার সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি অভিজ্ঞতার সঙ্গে ধৈর্য ধরলেন।
প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৩৮৭ রান। মাত্র একটি উইকেট হারিয়ে দলের লাঞ্চের অবস্থা ছিল দাপুটে। লিটন-মিরাজের জুটি আর মুশফিকের শতক বাংলাদেশের রানের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করে। যদি মধ্য-পর্যায়ের ব্যাটাররা তাদের ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, দল সহজেই ৪৫০–৫০০ রান স্পর্শ করতে পারবে। এই সেশনের ঘটনা স্মরণীয় হয়ে রইল—মুশফিকের ইতিহাস গড়া শতক এবং লিটনের শতকের বিস্ফোরণ।
