মুশফিকুর রহিম, বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক নক্ষত্র, শততম টেস্টের আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ এক ব্যতিক্রমী দিন কাটালেন। সকাল সাড়ে ৯টা, রোদ ঝলমলে এই সময়টায় স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল সম্পূর্ণ পরিচিত—ক্রিকেটাররা নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তবে, আজকের দিনটা অন্যদিনের মতো ছিল না। ক্যামেরা স্ট্যান্ডে বসা, ভিডিও ক্যামেরার লেন্স খুলে ফেলা, সবই দেখাচ্ছিল যে আজ মুশফিকের বিশেষ দিন।
বিশেষ দিনটি ছিল মুশফিকের জন্য, কারণ তিনি পা রাখতে যাচ্ছিলেন তাঁর ক্রিকেট জীবনের এক মহামাইলফলকে—শততম টেস্টে। ক্যারিয়ারের প্রায় ২০ বছর পার করা মুশফিক আজ এই দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, একদম কাছে, তিনি অল্প সময়ের জন্য থমকে গিয়েছিলেন। কেন? কারণ, তিনি যে মানুষটি শততম টেস্ট খেলতে যাচ্ছেন, তার পাশে থাকার জন্য সেলফি তুলতে ছুটে এসেছেন ক্রিকেটাররা, ফটোগ্রাফাররা।
তবে মুশফিকের এই মনোযোগ পুরোপুরি ছিল ক্রিকেটের প্রতি। নেটে অনুশীলন শুরু করার আগে, তাঁর সতীর্থরা ছবি তোলার জন্য এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করছিলেন। কিন্তু মুশফিকের নজর ছিল একমাত্র ব্যাটিং অনুশীলনের দিকে। তার ব্যাটিং নেটের প্রতি তার মনোযোগ এতটাই তীব্র যে, তা দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের নেটে এসেছেন। প্রতিটি বলকে তিনি শীতল মনোযোগ দিয়ে মোকাবিলা করছিলেন, বিশেষ করে অফ স্টাম্পের বাইরের বল তিনি ধৈর্যের সাথে ছেড়েছেন।
অনুশীলনে মুশফিকের সাফল্য দেখে উপস্থিত ছিলেন তার সতীর্থ জাকের আলী, যিনি মুগ্ধ হয়ে মুশফিকের ব্যাটিং দেখছিলেন। এর মধ্যে, মিরপুরে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যত বাধা–বিপত্তিই আসুক, মুশফিক প্রতিবার সামনে পা বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। মুশফিকের অভিজ্ঞতা, পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাঁকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।
এদিন, মুশফিক যখন সংবাদকর্মীদের ছবি তোলার আবেদনে সাড়া দেন, তখন তার মুখে একটি সুকৌশল হাসি ছিল। যদিও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি, তবে তার কাছ থেকে পাওয়া এই মুহূর্তগুলো দেখিয়ে দেয় যে, মুশফিক এখনও মাঠে এবং মাঠের বাইরে এক কিংবদন্তি।
এই বিশেষ দিনে মুশফিকের জন্য যাঁরা শুভকামনা জানিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমী থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড়ও। যেমন, আইরিশ ক্রিকেটার হ্যারি টেক্টর বলেছিলেন, “এটা সত্যিই চমৎকার!” এর মানে, মুশফিকের প্রতি শ্রদ্ধা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
