আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচেই নিজের উপস্থিতি জানান দিলেন লিওনেল মেসি। তাঁর সরাসরি ও পরোক্ষ অবদানে ইন্টার মিয়ামি দুটি গোল পেলেও শেষ পর্যন্ত আটলান্টা ইউনাইটেডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বর্তমান মেজর লিগ সকার চ্যাম্পিয়নদের।
বজ্রপাত ও ঝড়ের আশঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৯০ মিনিট পর শুরু হয় ম্যাচটি। অপেক্ষার পর খেলা শুরু হলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। আর ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন মেসি।
৩২ মিনিটে মিয়ামিকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে উঁচুতে উঠে দারুণ হেডে বল জালে পাঠান তিনি। গোলটির মাধ্যমে মেসির সরাসরি অবদানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে মিয়ামির সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পরই সমতা ফেরায় আটলান্টা। সাবেক নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড মিগেল আলমিরন নিচু ও শক্তিশালী শটে মিয়ামির জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেন।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আবারও এগিয়ে যায় মিয়ামি। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণের সূচনা করেন মেসি। তাঁর তৈরি করা সুযোগের ধারাবাহিকতায় বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করেন সাবেক লিভারপুল ও বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড লুইস সুয়ারেস। ফলে বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে থাকে মিয়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আটলান্টা। ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু মিয়ামির গোলরক্ষক সেই সুযোগ নষ্ট করে দেন, দুর্দান্ত সেভে দলকে এগিয়ে রাখেন।
তবে শেষ পর্যন্ত মিয়ামির রক্ষা হয়নি। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে আবারও পেনাল্টি পায় আটলান্টা। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করেনি তারা। সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো স্পট-কিক থেকে গোল করে ২-২ সমতা ফেরান।
শেষ কয়েক মিনিটে দুই দলই জয়সূচক গোলের চেষ্টা চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে মেসির দুটি গোলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার ম্যাচেও পূর্ণ তিন পয়েন্ট পাওয়া হলো না ইন্টার মিয়ামির।
আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারী মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর ক্লাব ফুটবলে ফিরেই নজর কেড়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্স মিয়ামির আক্রমণভাগকে প্রাণবন্ত করলেও রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের দুর্বলতা এবং জোড়া পেনাল্টি ম্যাচের ফল বদলে দেয়।
অন্যদিকে, আটলান্টা ইউনাইটেডের জন্য শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোলটি গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে। মিয়ামি দুইবার এগিয়ে গিয়েও জয় ধরে রাখতে না পারায় ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
