
মেসির বিদায়ের ম্যাচে তাগলিয়াফিকোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। একই সঙ্গে সেই ম্যাচকে ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ভবিষ্যৎও। সরাসরি অবসরের ঘোষণা না দিলেও অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন মেসি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে ঘরের মাঠে খেলতে নামবেন তিনি। বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি তাই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই এই সম্ভাব্য বিদায় ঘিরে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে আবেগ ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মেসির সঙ্গে একই সময়ে আর্জেন্টিনা দলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া তাগলিয়াফিকোও নিজের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায় নিয়ে কথা বলেছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেছেন, তিনি এখন ক্যারিয়ারের শেষদিকে রয়েছেন এবং যতটা সম্ভব প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান। কারণ কখন শেষ সময় এসে যাবে, তা কেউ জানেন না।
তাগলিয়াফিকোর এই বক্তব্যকে সরাসরি অবসরের ঘোষণা বলা না গেলেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এর আগেও তিনি নিজের ক্যারিয়ারের শেষ সময় নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। ফলে মেসির সম্ভাব্য বিদায়ের ম্যাচটি তাগলিয়াফিকোর জন্যও বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে।
মেসির অবসর প্রসঙ্গেও আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার কথা বলেছেন তাগলিয়াফিকো। তাঁর মতে, দলের সবচেয়ে বড় তারকার বিদায় মেনে নেওয়া সহজ নয়। তবে ফুটবলে এমন একটি সময় আসবেই—এ বাস্তবতা মেনে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
মেসির পর আর্জেন্টিনা কীভাবে নিজেদের এগিয়ে নেবে, সে প্রসঙ্গেও সতীর্থদের সতর্ক করেছেন এই ডিফেন্ডার। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দিয়েগো ম্যারাডোনার পরবর্তী সময়ের কথাও। ম্যারাডোনার বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা যেমন নতুনভাবে নিজেদের শক্তিশালী করেছিল, মেসির পরও দলকে একইভাবে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
তাগলিয়াফিকোর মতে, বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়কে প্রায় দুই দশক ধরে জাতীয় দলে পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। কিন্তু একটি যুগ শেষ হওয়ার পর নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও দলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়দের নিতে হবে।
মেসিকে ছাড়া এগিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং দলগতভাবে উন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন তাগলিয়াফিকো। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে হারানোর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে সেই শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকার সুযোগও নেই আর্জেন্টিনার।
মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মেসির বিদায়ী আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয় কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে। একই সঙ্গে তাগলিয়াফিকোও যদি সেই ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানেন, সেটিও হবে আর্জেন্টিনা দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। দুজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হলেও, সম্ভাব্য বিদায়ের আবহে ম্যাচটির গুরুত্ব যে আরও বেড়ে গেছে, তা নিয়ে সংশয় নেই।