মেসির সামনে ১৩ বছর পর পুরোনো দুঃস্বপ্ন
গোল করছেন, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এখনও আলো ছড়াচ্ছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও ইন্টার মায়ামিকে ধারাবাহিকভাবে জয়ের পথে ফেরাতে পারছে না। একের পর এক ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে ফ্লোরিডার দলটি এখন এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে পরবর্তী ম্যাচেও জয় না এলে মেসির পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রায় ১৩ বছর পর টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার সেই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ফিরে আসতে পারে।
মেজর লিগ সকারে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নু স্টেডিয়ামে সিএফ মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে মাঠে নামবে ইন্টার মায়ামি। এই ম্যাচটি তাই শুধু লিগের আরেকটি ম্যাচ নয়; সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যও এটি মায়ামির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের তথ্য অনুযায়ী, মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষেও জয় না পেলে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকবে মায়ামি। আর মেসির পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে সর্বশেষ এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ২০১৩ সালে, যখন তিনি বার্সেলোনায় খেলছিলেন।
সাম্প্রতিক ম্যাচে টরন্টো এফসির কাছে ২–১ গোলে হেরেছে ইন্টার মায়ামি। দলের হয়ে গোল করেছিলেন মেসি। কিন্তু তাঁর গোলও শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। ব্যক্তিগতভাবে নিয়মিত অবদান রাখলেও দলীয় ফলাফল প্রত্যাশিত না হওয়ায় মেসির পারফরম্যান্সের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও যেন কিছুটা ম্লান হয়ে পড়ছে।
দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে কোচ গিয়ের্মো হোয়োসের ওপরও চাপ বাড়ছে। টরন্টোর বিপক্ষে হারের পর পরিস্থিতির দায় নিজের কাঁধে নিয়ে তিনি স্বীকার করেছেন, বর্তমান অবস্থায় দলের সবাই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি তাদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুধু মাঠের ফল নয়, সামগ্রিকভাবে দলের আত্মবিশ্বাসও এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।
তবে ইন্টার মায়ামির জন্য টানা কয়েকটি ম্যাচ জয়হীন থাকা সম্পূর্ণ নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। গত মৌসুমেও দলটি টানা চার ম্যাচে জয় পায়নি। ওই সময়ে দুটি ম্যাচে হার এবং দুটি ম্যাচে ড্র করেছিল তারা। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে মায়ামি দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় এবং পরের পাঁচ ম্যাচেই জয় তুলে নেয়। ফলে এবারও সংকট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু একটি জয়, যা দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে পারে।
মেসির ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার সর্বশেষ ঘটনা ঘটেছিল ২০১৩ সালে। তখন বার্সেলোনার হয়ে খেলছিলেন তিনি। সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর প্যারিস সাঁ-জার্মাঁর বিপক্ষে দুই ম্যাচে জয় পায়নি বার্সেলোনা। এরপর অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সঙ্গে ড্র করে তারা। সেই ধারার শেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৪–০ গোলে হেরে যায় কাতালান ক্লাবটি। এর মধ্য দিয়েই মেসির দল টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের বাইরে থাকার সেই সময়টি পার করে।
১৩ বছর পর এবার সেই স্মৃতিই আবার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য পরিস্থিতি একেবারেই একই নয়। সময় বদলেছে, দল বদলেছে, প্রতিযোগিতার ধরনও আলাদা। কিন্তু পরিসংখ্যানের দিক থেকে মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ম্যাচটি মেসির জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। জয় না এলে তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পর আবারও টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন থাকার ঘটনা ঘটবে।
ইন্টার মায়ামির জন্যও ম্যাচটির গুরুত্ব কম নয়। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গোলের সুযোগ কাজে লাগানো, রক্ষণভাগের স্থিরতা এবং পুরো দলের সমন্বয়—সবকিছু নিয়েই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। মেসি গোল করলেও শুধু তাঁর ওপর নির্ভর করে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়া কঠিন। দলকে জিততে হলে আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণেও স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে তাই মায়ামির লক্ষ্য হবে একসঙ্গে দুটি বিষয় নিশ্চিত করা—জয়হীনতার ধারা থামানো এবং দলের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা। আর মেসির জন্য ম্যাচটির বাড়তি তাৎপর্য হলো, ২০১৩ সালের সেই পুরোনো অস্বস্তিকর অধ্যায় যেন নতুন করে তাঁর ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানে ফিরে না আসে।
মাঠে মেসির ব্যক্তিগত সাফল্য এখনও অব্যাহত। এখন সেই সাফল্যকে দলীয় জয়ে রূপ দেওয়াই ইন্টার মায়ামির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।