
মোহামেডানের পর আবাহনীও ফিফা নিষেধাজ্ঞার তালিকায়
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ ক্লাবগুলো একে একে ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ছে। গত সপ্তাহে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এবার একই পরিণতি বরণ করতে হয়েছে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ঢাকা আবাহনী লিমিটেডকেও। একই সময়ে, বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে পাঁচটি আলাদা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
৩ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে আবাহনীর উপর ফিফার খেলোয়াড় নিবন্ধন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। সাধারণত, বিদেশি ফুটবলার বা কোচরা চুক্তির আওতায় প্রাপ্য টাকা না পেলে ফিফার সহায়তা নেন। এরপর ফিফা সেই ক্লাবের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এবং এই নিষেধাজ্ঞা তখন পর্যন্ত বহাল থাকে যতদিন না সেই বকেয়া পরিশোধ করা হয় বা ফুটবলার/কোচ তাদের আবেদন প্রত্যাহার করেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে আবাহনী ক্লাব অনেক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। তারা বিদেশি কোচ ও ফুটবলারদের সাথে চুক্তি সম্পাদন করেছিল, কিন্তু ৫ আগস্ট, ২০২৩-এ সেই চুক্তিগুলো বাতিল করা হয়। এরপর দেশি কোচ মারুফুল হককে দায়িত্ব দেয়া হয়, এবং তারা প্রথম লেগ বিদেশি ফুটবলার ছাড়াই খেলতে নামে। ফুটবল সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, হয়তো কোনো বিদেশি ফুটবলারই ফিফায় আবেদন করেছেন। তবে আবাহনী ক্লাব এই ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এছাড়া, ঘরোয়া ফুটবলের ২০২৩-২৪ মৌসুমের শুরু থেকেই ফিফার নিষেধাজ্ঞার ছায়া ছিল। ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তবে উজবেক ফুটবলারের পাওনা পরিশোধ করার পর ফিফা তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়, এবং ক্লাবটি লিগে অংশ নিতে সক্ষম হয়। কিছুদিন পর, বসুন্ধরা কিংসের উপরও ফিফা দলবদল নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
কিংসের বিরুদ্ধে পাঁচটি পৃথক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা মূলত রোমানিয়ান কোচ ভ্যালেরি তিতে এবং বিদেশি ফুটবলারদের পাওনা পরিশোধ না করার কারণে হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা শুরুর পরে, ফিফা খেলার সময় বিদেশি ফুটবলারদের বিরুদ্ধে আরও কিছু আবেদন গ্রহণ করেছে। এর ফলে, গত ২৯ অক্টোবর মোহামেডানও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে।
বর্তমানে, মোহামেডান, আবাহনী এবং বসুন্ধরা কিংসের মতো ক্লাবগুলো ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটানোর জন্য সংগ্রাম করছে। তবে, দলবদল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায়, এই ক্লাবগুলোকে ফকিরেরপুলের মতো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে না। যদি তারা মধ্যবর্তী দলবদলের সময় খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে চায়, তবে অবশ্যই ফিফার নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে উঠতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা নেওয়া ক্লাবগুলোর তালিকা:
| ক্লাবের নাম | নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা |
|---|---|
| বসুন্ধরা কিংস | ৫ |
| শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব | ৩ |
| মোহামেডান | ১ |
| আবাহনী | ১ |
| ফেনী সকার | ১ |
এভাবে, বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ ক্লাবগুলো ক্রমাগত ফিফার শাস্তির কবলে পড়ছে, যা দেশের ফুটবল পরিবেশে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।