
মৌসুম শুরুর আগেই রেকর্ড গড়ল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফুটবল টুর্নামেন্ট ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়ানোর আগেই নতুন এক ইতিহাস তৈরি করেছে। আগামী ২১ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লিগের আসন্ন আসরে এক নতুন দৃশ্যপট দেখা যাবে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এই প্রথমবার প্রায় অর্ধেক ক্লাব অর্থাৎ ৯টি দল নতুন স্থায়ী প্রধান কোচকে ডাগআউটে নিয়ে মৌসুম শুরু করতে চলেছে। ঐতিহ্যবাহী ও শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোর এমন ব্যাপক পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে দারুণ কৌতূহল ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে শুরু করে নিউক্যাসল ইউনাইটেড ও চেলসি—একাধিক ক্লাবজুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এর আগে ২০১৬-১৭ মৌসুমে সর্বোচ্চ ৮টি ক্লাব নতুন কোচের অধীনে মৌসুম শুরু করার রেকর্ড গড়েছিল। সেবার পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিতে এবং আন্তোনিও কন্তে চেলসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ৭টি এবং ২০১২-১৩ মৌসুমে ৬টি ক্লাব নতুন কোচ নিয়োগ দিয়েছিল। তবে এবারের সংখ্যাটি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন উদ্যম, কৌশলগত পরিবর্তন ও মানসিক সতেজতা আনতে ক্লাবগুলো মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে কোচ বদলানোর এই সংস্কৃতি রাতারাতি সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগে একজন কোচের গড় মেয়াদকাল এখন মাত্র ২০ মাসের কাছাকাছি। অতীতে দেখা গেছে, অনেক দল মৌসুমের মাঝপথে বা শুরুতেই কোচ পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। উদাহরণস্বরূপ, গত মৌসুমে নটিংহাম ফরেস্ট তিনজন এবং টটেনহাম দুবার কোচ বদল করেছে। অন্যদিকে, ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্সেনালের মিকেল আরতেতা বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এক ক্লাবে কাজ করা কোচ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে কেবল আতলেতিকো মাদ্রিদের দিয়েগো সিমিওনে তাঁর চেয়ে বেশি সময় ধরে একই ক্লাবের দায়িত্বে আছেন।
নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী সপ্তাহেই কোচদের এই লড়াই বেশ জমে উঠবে। সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনী রাউন্ডেই মুখোমুখি হবে নতুন কোচদের অধীনে থাকা দলগুলোর তিনটি হেভিওয়েট ম্যাচ—ফুলহাম বনাম চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি বনাম বোর্নমাউথ এবং নিউক্যাসল বনাম লিভারপুল। ১৯৯২ সালে প্রিমিয়ার লিগ চালুর পর থেকে কেবল ছয়জন কোচ নিজেদের অভিষিক্ত মৌসুমেই শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছেন। ১৯৯৮৫-৮৬ মৌসুমের পর এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, আর্সেন ওয়েঙ্গার, জোসে মরিনিও, ইয়ুর্গেন ক্লপ কিংবা পেপ গার্দিওলার মতো কিংবদন্তি কোচদের কাউকেই দেখা যাবে না, যাদের দলগুলো মিলে ৩৪টি আসরের মধ্যে ২৬টি শিরোপা জিতেছিল।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে বিভিন্ন মৌসুমে নতুন কোচ নিয়ে আসর শুরুর একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| মৌসুম | নতুন কোচ নিয়ে শুরু করা ক্লাবের সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য কোচ বা পরিবর্তন |
| আসন্ন মৌসুম | ৯টি | লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও নিউক্যাসলে পরিবর্তন |
| ২০১৬-১৭ | ৮টি | পেপ গার্দিওলা (ম্যানসিটি) ও আন্তোনিও কন্তে (চেলসি) যোগ দেন |
| ১৯৯৫-৯৬ | ৭টি | বিভিন্ন ক্লাবে বড় ধরনের কৌশলগত রদবদল |
| ২০১২-১৩ | ৬টি | ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোতে নতুন ম্যানেজারের আগমন |
| ২০২৫-২৬ | পরিবর্তনশীল | একাধিক ক্লাব একাধিকবার কোচ বদল করে |
| ২০১৯-২০ | পরিবর্তনশীল | ডিসেম্বরে মিকেল আরতেতার আর্সেনালে যোগদান |
| ২০১১-১২ | পরিবর্তনশীল | ইউরোপের শীর্ষ লিগে দীর্ঘ মেয়াদের কোচদের উত্থান |
| ২০২০-২১ | পরিবর্তনশীল | মহামারী পরবর্তী সময়ে কৌশলগত রূপান্তর |
| ২০২১-২২ | পরিবর্তনশীল | ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্লাবগুলোর ম্যানেজমেন্টে নতুন যুগ |
| ২০২২-২৩ | পরিবর্তনশীল | দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ওপর ক্লাবগুলোর অনীহা বৃদ্ধি |
সব মিলিয়ে, পুরোনো প্রবীণ মাস্টারমাইন্ডদের অনুপস্থিতি এবং তরুণ ও নতুন কৌশলবিদদের পদচারণায় প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসর সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মাত্রা পেতে যাচ্ছে। নতুন কোচদের হাত ধরে দলগুলো কতটা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত কার ঝুলিতে শিরোপা ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।