
রিয়ালশূন্য স্প্যানিশ স্কোয়াডে বার্সার দাপট, ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে মহাচ্যালেঞ্জ
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে স্পেনের পারফরম্যান্স যেন এক নিখুঁত ফুটবল মহাকাব্য। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত দলটির শক্তি আর কৌশলের গভীরতা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। মাঠের খেলায় লা রোহাদের কোনো দুর্বলতা খুঁজে বের করাই এখন প্রতিপক্ষ দল ও ফুটবল বিশ্লেষকদের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কোনো ধরনের বড় খুঁত ছাড়াই বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত মঞ্চে পা রাখা লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তবে শিরোপার শেষ লড়াইয়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যা এক আগুনে ম্যাচের আভাস দিচ্ছে।
বিশ্বকাপের দামামা বাজার ঠিক আগে স্প্যানিশ ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড লুইস দে লা ফুয়েন্তে একটি বিষয় পরিষ্কার করেছিলেন—তিনি কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর না করে একটি ‘একতাবদ্ধ’ দল গড়তে চান। তবে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণার পর স্প্যানিশ ফুটবল মহলে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে না রাখায় সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের একাংশ কোচের কৌশল নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছিল। অনেকে তো স্পেনের নকআউট পর্বে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন। তবে মাঠের সবুজ ঘাসে বল গড়াতেই সেই সব সমালোচনাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন।
স্পেনের এই স্বপ্নের পথচলার মূল মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা। এবারের স্কোয়াডে বার্সেলোনারই আটজন ফুটবলার দাপটের সাথে খেলছেন। তবে এই দলটির সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো, এটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের ব্লক বা দর্শনের ওপর আটকে নেই। বার্সা তারকাদের সাথে পিএসজির দূরদর্শী মিডফিল্ডার ফ্যাবিয়ান রুইজ এবং অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের অ্যালেক্স বায়েনার সংযুক্তি দলটিকে করেছে অনন্য। মাঝমাঠের আসল নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন ম্যানচেস্টার সিটির ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা রদ্রি। আর রিয়াল সোসিয়েদাদের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল গোলমুখে কোচের আস্থার সেরা প্রতিদান দিচ্ছেন। অভিজ্ঞ আর নবীনের এই মিশেলে স্পেন এখন পূর্ণাঙ্গ এক শক্তি।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকে স্পেনের গোলমেশিন হয়ে উঠেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এখন পর্যন্ত তাঁর পা থেকে এসেছে ৫টি চোখধাঁধানো গোল। ফাইনালের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তিনি যদি এই গোলক্ষুধা বজায় রেখে দলকে বিশ্বসেরার মুকুট এনে দিতে পারেন, তবে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর নাম নিশ্চিতভাবেই অমর হয়ে থাকবে।
স্পেনের এই অপ্রতিরোধ্য গতির পেছনে আসল জ্বালানি জোগাচ্ছেন দলটির তরুণ তুর্কিরা। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো এবং রক্ষণভাগের তরুণ দেয়াল পাউ কুবার্সি টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিভায় ভাস্বর ছিলেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণে ওলমোর সৃজনশীল পাস, উইং ধরে লামিনে ইয়ামালের অতিমানবীয় গতি আর ডিফেন্সে কুবার্সির ম্যাচ রিডিংয়ের ক্ষমতা স্পেনকে নিখুঁত ভারসাম্য দিয়েছে। স্পেনের রিজার্ভ বেঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে, গত ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক নিকো উইলিয়ামসকেও অনেক ম্যাচে পার্শ্বচরিত্রে দেখা গেছে। মাঠের এই চোখধাঁধানো ফর্মই ফাইনালের আগে আলবিসেলেস্তে শিবিরের রণকৌশল সাজানোর ক্ষেত্রে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।